Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

মধ্যরাতে মহল্লার রাস্তায় এক মাতালের সাথে আরেক মাতালের দেখা হতেই প্রথম মাতাল দ্বিতীয় মাতালকে প্রশ্ন করল, “ভাই, আকাশে ঐডা কি চাঁন নাকি সূর্য্য?”
দ্বিতীয় মাতাল আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন ভেবে উত্তর দিল, “আমি ঠিক শিউর না ভাইডি, আমি এই মহল্লায় নতুন আইছি।”
অথবা
অভিভাবকত্ব নিয়ে মামলা চলছে, বাচ্চার মায়ের দাবি সন্তানের মা হিসেবে অভিভাবকত্ব তারই পাওনা। বিচারক এবার বাবার বক্তব্য শুনতে চাইলেন। বাচ্চার বাবার সাফ কথা, “ইয়োর অনার, কার্ড পাঞ্চ কইরা এটিএম বুথ থেকে যে টাকা আপনি তুললেন, সেই টাকাটা কি আপনার নাকি ঐ এটিএম বুথের?”
জোকস অথবা কৌতুক কিংবা চুটকির এই এক ট্রিভিয়া আর ট্রাজেডি, কে যে এর প্রকৃত রচয়িতা তার কোন হদিস আর কোথাও পাওয়া যায়না। তাই কার মাথায় যে এইসব জোকস এর আইডিয়া আসে আল্লাহ মালুম!

তবে চমতকারসব আইডিয়া উপস্থাপনের ক্ষেত্রে টিভি কমার্শিয়াল এড নির্মাতারা সবচে এগিয়ে। ফেভিকলের কিছু কিছু এড সত্যি অতুলনীয়! আইডিয়ার ব্যাপারে সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি ইলিওনর রুজভেল্ট বলতেন, সস্তা লোক গসিপ করে মজা পায়, গড়পড়তা লোক আলাপ করে ঘটন-অঘটন নিয়ে, আর গ্রেট মাইন্ডস কথা বলে বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে।

কেউ কোন আইডিয়া দেবার পর অনেকেরই মনে হয়, আরে এইরকম একটা কিছু তো আমিও ভাবতেছিলাম মনে মনে। মজার ব্যাপার হল আইডিয়া জিনিসটা নিজে কিন্ত তেমন যুগান্তকারী কিছু না, কিন্তু প্রত্যেকটা যুগান্তকারী পরিবর্তনের পেছনে আছে একেকটা ভাল আইডিয়া। আইডিয়া জেনারেট করার জন্য চাই ক্রিয়েটিভ থিনকিং স্কিল। কিন্ত সব আইডিয়া কিন্তু আবার ভাল আইডিয়া হয় না। কিছু হয় উদ্ভট, আবার কিছু হয় আজাইরা। তাই ভাল আইডিয়া খুঁজে পাওয়ার একমাত্র উপায় হল অনেক অনেক আইডিয়া মাথায় আসা।

ভাল একটা আইডিয়া স্রেফ মাঠে মারা যেতে পারে যদি জায়গামত কায়দা করে উপস্থাপন করা না যায়। মোবাইল কোম্পানির এক চাকুরে একবার তার বন্ধুর বাসায় গেল আড্ডা দিতে। হঠাত তার বন্ধু বলল, “দোস্ত, তোদের ৫০ টাকার আর ৫০০ টাকার রিচার্জ লোডের কার্ডের সাইজ একই, বড় ছোট হইলে ভাল হইত।” সেই চাকুরে এই র আইডিয়াটা তার কর্তৃপক্ষের গোচরে আনল আর তার কর্তৃপক্ষও আইডিয়াটা লুফে নিল। এখনকার মোবাইল রিচার্জ কার্ড দেখবেন চরম ইকোনমিক সাইজে এসে ঠেকসে।

অতএব খালি আইডিয়া জেনারেশন ইজ নট ইনাফ। আইডিয়াটা আমলে নেবার মত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ থাকাটাও সমান ইম্পর্ট্যান্ট। সবাই আইডিয়া দেয় না, দেবার দরকারও নেই। কম্পিটেন্ট লিডারশিপ, ম্যানেজার আর এক্সিকিউটিভেরও দরকার আছে, বরং বেশি দরকার। কারন এদের ছাড়া আইডিয়া বাস্তবায়ন অসম্ভব।

কিছু লোক আছে আপনার সামনে আপনার আইডিয়ার চরম তুলাধুনা করে মজা পায়, কিন্তু পেছনে গিয়ে ঠিকই আপনার আইডিয়ামত কাজ করে ফেলে। আবার কিছু আছে বই চোরের মত আইডিয়া চোর, চুপচাপ আপনার আইডিয়াটা জেনে গিয়ে জায়গামত নিজের বলে চালিয়ে দিয়ে বাজিমাৎ করে দেয়। কিন্তু তাতে আইডিয়া গিভাররা মোটেই দমে যাননা। তারা আইডিয়ার কপিরাইট আর পেটেন্ট ডিজাইন কনফার্ম করার ব্যাপারটাকে থোরাই কেয়ার করেন। কারন বাস্তবতা হল, আইডিয়া গিভারস আর রিয়েলি ভেরি শর্ট সাপ্লাইড ক্রিয়েশনস।

পুনশ্চঃ
দেশে আইডিয়া ব্যাংক টাইপের একটা জিনিস থাকলে বেশ হত। বছর বছর আইডিয়া হান্ট টাইপ প্রতিযোগীতার আয়োজনও করা যেতে পারে। তারপর যথাযথ কর্তৃপক্ষ সেরা আইডিয়াগুলো কাজে লাগিয়ে ফেলবে, আর দেশ হবে সত্যিকারের সোনার বাংলা!
১৬ কোটি মানুষের ভেতর আইডিয়া গিভারস তো কম হবার কথা না। এই যে দেখেন, আমিও মনে হয় একটা আইডিয়া দিয়েই ফেল্লাম…

পুনঃ পুনশ্চঃ
কিছু লোক আছে নিজে তো কিস্যু করবেই না, আবার অন্য কাউকেও করতে দেবে না। আমার এক বস মাঝে মাঝেই আসাধারন কিছু ইডিয়মস কোউট করতেন, নরমাল বই পত্রে এইসব পাওয়া দুস্কর। একবার এরকম একজনের ব্যাপারে বললেন, ” অবস্থা এমন যে, সে নিজেও হাগবে না, পরের জনকেও টয়লেটে ঢুকতে দিবে না…।”
জোক্স উইল বি জোক্স, আইডিয়াস আর বুলেটপ্রুফ …

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

2 thoughts on “আইডিয়া”

  1. বাংলাদেশের চা এর দোকানে সবচেয়ে বেশি আইডিয়া পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *