Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

গল্প-১ 

ক্যাথি গোসল শেষ করে বের হয়ে আসতেই তার স্বামী রিচার্ড গোসল করতে ঢুকে গেলেন। ওম্নি সদর দরজায় বেল বেজে উঠল। বেচারা ক্যাথি কোনরকমে একটা তোয়ালে জড়িয়ে নিয়ে দরজা খুলে দেখে পাশের বাসার বব দরজায় দাঁড়িয়ে। ক্যাথি কিছু বলার আগেই বব বলে উঠল, “তুমি যদি তোমার তোয়ালেটা এক্ষুনি সরাতে পার, আমি তোমাকে ৮০০ ডলার দেব।” ক্যাথি কিছুক্ষন কী যেন ভাবল, তারপর তোয়ালেটা খুলে ববের সামনে নগ্ন হয়ে দাড়াল। মুগ্ধ বব মন্ত্রমুগ্ধের মত ৮০০ ডলার এগিয়ে দিতেই ক্যাথি ফের তোয়ালেটা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে মিস্টি হেসে দরজাটা ভিড়িয়ে দিয়ে বেডরুমে ফিরে এল। 

ক্যাথির ফিরে এসেছে বুঝতে পেরে বাথরুমের ভেতর থেকেই রিচার্ড জানতে চাইল, “কে এসেছিল ডার্লিং?” জবাবে ক্যাথি জানাল, “পাশের বাসার বব এসেছিল।” বাথরুম থেকে বের হয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে রিচার্ড জানতে চাইল, “ববের কাছে যে ৮০০ ডলার পেতাম সেটা কি দিয়ে গ্যাছে নাকি?” 

গল্পের মোরালঃ 
যেকোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথাসময়ে গুরুত্বপুর্ন তথ্য একজন আরেকজনের সাথে শেয়ার করে নিলে অনেক অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। 

গল্প-২ 

জনৈক পাদ্রি এক নানকে গাড়িতে লিফট দিচ্ছিলেন। গাড়িতে বসে নান এমন ভাবে পা তুলে বসল যে পাদ্রি তার একপাশের উরু পরিস্কার দেখতে পাচ্ছিলেন। পাদ্রি কোন রকমে নিজেকে সামলে নিলেন। কিন্তু কিছুক্ষন পর গিয়ার বদলানর ছলে নানের উরু ছুয়ে দিলেন। শিউরে উঠে নান বলে উঠল, “ফাদার, আপনার কি মনে আছে ১২৯ নম্বর স্লোকে ঈশ্বর কী বলেছেন?” বিব্রত পাদ্রি “হু, হা” বলে দ্রুত হাত সরিয়ে নিলেন। চার্চে পৌছে নানকে বিদায় করে দিয়ে পাদ্রি পরিমরি করে ছুটলেন ১২৯ নম্বর স্লোকে কী লেখা আছে দেখতে। স্লোক পড়ে পাদ্রি শোকে পাথর হয়ে গেলেন। 
স্লোকে লেখা ছিল, “এগিয়ে যাও, প্রয়োজনে আরো উপরে উঠ, নিশ্চয় তুমি সুখী হবে।” 

গল্পের মোরালঃ 
নিজের কাজের খুঁটিনাটি জানা না থাকলে অনেক সুবর্ন সুযোগ হেলায় হারাতে হয়।

গল্প-৩ 

এন্টিকের দোকানে আলাদিনের চেরাগ খুঁজে পেল এক সেলস্ম্যান। ঘষা দিতেই দৈত্য হাজির সঙ্গে হাজির দোকানের ক্লার্ক আর ম্যানেজার। বের হয়েই দৈত্য যথারীতি তিনজনকে তিনটা উইশ করতে বলল। 

সেলসম্যান বলল “এক্ষুনি আমারে পাতায়া বিচে পাঠাও, মাস্তি করে আসি।” 
দৈত্য বলল “তথাস্তু”, অম্নি সেলসম্যান উধাও। এবার ক্লার্ক বলল “আমারে লুভর মিউজিয়ামে নিয়া যাও, মোমের মুর্তি দেখুম।” দৈত্য বলল “তথাস্তু”, অম্নি ক্লার্কও উধাও। এবার দৈত্য ম্যানেজারের দিকে তাকায়া দেখে বস ক্ষেপে লাল হয়ে আছে, দৈত্যের চোখে চোখ পড়তেই সে খেকিয়ে উঠল, “আমারে জিজ্ঞেস না করে ওরা ক্যামনে গেল, আর তুমিও ক্যামনে পাঠাইলা? যাহোক,এক্ষুনি ঐ দুইটারেই দোকানে দেখতে চাই।” দৈত্য বলল “তথাস্তু”, অম্নি সেলসম্যান আর ক্লার্ক মুখ আমসি করে ফেরত আসল। 

গল্পের মোরালঃ 
আগে বসের মতামতটা জেনে নিন।

গল্প-৪ 

মগডালে অলস বসে রোদ পোহাচ্ছিল এক ঈগল। ঈগলের ঠাটবাট দেখে এক খরগোশেরও খায়েশ হল রৌদ্রস্নানের। সে ঈগলকে জিজ্ঞেস করল তার মত সেও গাছের তলায় বসে রোদ পোহাতে পারে কিনা? শ্রাগ করে নিরুত্তাপ ভঙ্গীতে ঈগল সায় দিল আর খরগোশটাও গাছের গুড়িতে পিঠ ঠেকিয়ে রোদ পোহাতে লাগল। ক্ষুধার্ত এক শিয়াল পাশ দিয়েই যাচ্ছিল। গাছের গোড়ায় এমন লোভনীয় শিকার বসে থাকতে দেখে সে ঝাঁপিয়ে পড়ল খরগোশের ওপর। বেচারা খরগোশ প্রানটা হারাল। 

গল্পের মোরাল 
কোন কিছু না করে অলস বসে থাকার মত বিলাসিতা তাদেরই সাজে যারা অনেক, অ-নে-ক উপরে উঠতে পেরেছে। 

বোনাস মোরাল 
ডালের শক্তির ওপর ভরসা করে ঈগল মগডালে বসে না, ঈগলের আস্থা তার নিজের ডানার সক্ষমতার ওপর। 

গল্প-৫ 

একবার এক মুরগি আলাপ করছিল এক ষাড়ের সাথে। কথাচ্ছলে মুরগি জানাল তার খুব সাধ হয় ঐ গাছের মগডালে উঠে বসতে, কিন্তু তার ডানায়তো এতো জোর নেই, তাই তার সাধও কখনো পূরন হবার নয়। ষাড় বলল যে তার গোবরে অনেক সার আছে, আর মুরগি যদি নিয়মিত তার গোবর সেবন করে তাহলে একদিন সেও গাছের মগডালে ওঠার শক্তি পেতে পারে। সেই থেকে প্রতিদিন নিয়মিত মুরগী গোবর সেবন শুরু করল। আর এভাবেই এক ডাল এক ডাল করে একদিন সে মগডালে উঠে গেল! মগডালে উঠে খুশিতে আটখানা মুরগি বেজায় চেঁচামেচি শুরু করে দিল। পাশ দিয়েই যাচ্ছিল এক পাখি শিকারি। গাছের মগডালে মুরগি দেখে তো সে অবাক, সময় নিয়ে নিশানা করে সে এক গুলিতে মুরগিটাকে ফেলে দিল। 

গল্পের মোরাল 
শক্তিবর্ধক সেবন করে আপনি একবারের জন্য উপরে উঠলেও উঠতে পারেন, কিন্তু সেই অবস্থানটা ধরে রাখা কঠিন। 
ভিন্নার্থে – স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।

বোনাস মোরাল 
উপরে ওঠার পর আওয়াজ কম করুন, এতে আপনার শত্রুর দৃস্টি আকৃস্ট হয়। 

গল্প-৬ 

শীতের ঠান্ডায় কাতর ছোট্ট এক পাখি মাটিতে বসে কাঁপছিল, উড়ার সাদ্যি নেই। এমন সময় পাশ দিয়ে যাবার সময় এক গরু তার গায়ে মলত্যাগ করে দিল। যাহোক গোবরের উষ্ণতায় বেচারা পাখি যেন প্রান ফিরে পেল। সুখে আনন্দে পাখি শিষ দিতে লাগল। তার শিষ শুনে লোভি এক বিড়াল এগিয়ে এল। তারপর গোবরে আটকা পরা পাখিটাকে টেনে বের করে এনে কপ করে খেয়ে ফেলল। 

গল্পের মোরাল 
১। যারা আপনার দিকে কাঁদা ছোড়ে তাদের সবাই আপনার শত্রু নাও হতে পারে। 
২। আপনাকে উদ্ধারের জন্য যারা এগিয়ে আসে তাদের সবাই আপনার বন্ধু নাও হতে পারে। 

বোনাস মোরাল 
গভীর সঙ্কটে থাকা অবস্থায় শব্দ কম করেন।

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *