Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

আমার মেয়ে স্কুলে যাবার জন্য পাগল! ইদানিং সে বাবার মতই প্রতি রাতে ঘুমাতে যাবার আগে নিজের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে চেক করে। অবশ্য আমার চাকরির সুবাদে এরিমধ্যে বেচারাকে তিন তিনবার স্কুল বদলাতে হয়েছে। কিন্তু তাতে তার উতসাহে এক বিন্দুও ভাটা পড়েছে বলে মনে হয় না। ওর এই উতসাহে আমি নিঃসন্দেহে আনন্দিত, আবার অভিভাবক হিসেবে কিছুটা চিন্তিতও বটে; আসলে স্কুল তাকে কী শেখাচ্ছে…কতটুকু শেখাচ্ছে?

মাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা কৃষি বিজ্ঞান নামে একটা সাবজেক্ট পড়তাম। তো একদিন স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, এই যে কৃষি বিজ্ঞান পড়ছি, জীবনে তো ক্ষেতের আইলে যাওয়া দূরে থাক, একটা ফুলের টবের পাশেও যাই না। তাহলে এই কৃষিবিদ্যা শিক্ষার উদ্দেশ্যটা কী? প্রশ্ন শুনে উত্তরে স্যার কটমট করে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু আমি আজও নিশ্চিত নই উৎপাদন পদ্ধতি অথবা বিপনন ব্যবস্থাপনা কৌশলের বদলে মাজরাপোকা আর জৈবসার পড়িয়ে লাভটা হল কার? আমাদের ক্লাশের কারোরই তো কৃষক হবার এইম ইন লাইফ ছিলনা আর পরেও কেউ কৃষিকে পেশা হিসেবে নেয়নি। অতএব অতঃপর উক্ত বিদ্যার ষোল আনাই গচ্চা গেল!

মেয়েরাও গার্হস্থ্যবিজ্ঞান পড়ত, কিন্তু সেই বিদ্যা দিয়ে সন্তান লালন কিংবা রান্নাবান্না অথবা ইন্টেরিয়র ডিজাইন, কোনটাই ভালভাবে করা যায়না। ধর্মের ক্লাশে হিন্দু বন্ধুরা সব অন্য ক্লাশে চলে যেত। অথচ অন্যদের ধর্মের বইএর প্রতি নিজেরটার চে আগ্রহ ছিল বেশি। মজার ব্যাপার হল স্কুলে ধর্মের শিক্ষককে আমি কখনও আমাদের ডেকে নিয়ে  যোহরের নামাজ পড়াতে দেখি নাই। যাহোক, আমার মনে হয়েছে স্কুলে সবাইকেই সব ধর্মের ব্যাপারেই একসাথে পড়ানো উচিত, আর ধর্মের প্র্যাক্টিসটা হওয়া উচিত নিজের বাড়ীতে পারিবারিক আবহে।

সেনাবাহিনীর রিক্রুটার হিসেবে কাজের সুবাদে সম্প্রতি প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ জন সদ্য মাধ্যমিক/ উচ্চমাধ্যমিক পাশ নতুন মুখের সাথে মোলাকাতের সু্যোগ হয়েছিল। হতে পারে এরাই এদের প্রজন্মের সেরা মুখ না, আশাকরি বাকিরা এদের চে ঢের ভাল, কিন্তু সংখ্যার দিক দিয়ে এরা নিঃসন্দেহে নিজ প্রজন্মের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। জিপিএ র ভারে নুয়ে পরা এদের দেখলে আপনার মায়াই হবে। এদের জ্ঞানের, জানার আর জানার আগ্রহের বহর দেখে প্রথমে আপনিও আমার মতই হাসবেন, পরে রসিকতা করবেন, তারপর বিষাদে ভুগবেন, এরও পর আপনি ক্ষুদ্ধ হবেন, কিন্তু সব শেষে আপনার ফের মায়াই হবে। হয়ত গ্লানিও হবে, কারন এদের এই হালের জন্য আপনি আমিও বোধহয় কিছুটা দায়ি!

‘ইন্টার পাশ’ একটা ছেলে এইদেশে নিজেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে অক্ষম। বাবা মা খরচ বন্ধ করে দিলে না খেয়ে মরবে। বিদেশে গিয়ে এরাই আবার পেটের দায়ে পার্ট টাইমে অনেক কাজ করে, অথচ দেশে সবেধন নীলমনি আছে এক টিউশানি। বাকিরা আছে জিএফ কিংবা ইয়াবা অথবা মোবাইল নিয়া ব্যস্ত। হিংস্রতা নিয়ে যাদের গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভাংতে হামলে পড়তে দেখি, গাছ লাগাইতে অথবা দেয়াল থেকে চিকা তুলতে অথবা আবর্জনা সাফ করতে কিন্তু তাদের কোন কর্মসূচি দিতে দেখিনা।

উচ্চমাধ্যমিক পাশ একজন যুবকের বোধহয় জানা থাকা উচিত তার মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারগুলো কি, তার বাসায় চুরি হলে কিভাবে থানায় গিয়ে জিডি করতে হয়, তার জমির খাজনা কোথায় কিভাবে দিতে হয়, ব্যাংকে কিভাবে একাউন্ট খুলতে হয়, কিভাবে এটিএম বুথে টাকা তুলতে হয়, গ্যাস-পানি-বিদ্যুত-আয়কর কোথায় কিভাবে দিতে হয়, পানিতে ডুবা-কারেন্টে শক খাওয়া-হার্ট এটাকের রোগিকে পাইলে প্রাথমিকভাবে কি করতে হয়, নিজের বাড়িতে ফ্ল্যাশ নস্ট হইলে-ফিউজ কেটে গেলে কিভাবে বদলাইতে হয়।

ষোল কোটির এই দেশে কাজেরতো অভাব দেখিনা। তারপরও দরিদ্র বাপের কান্ধে সিন্দাবাদের ভুতের মত সওয়ার হইয়া মাস্টার্স পাশ দিতেই হইব, এই ব্যাপারটা মর্মান্তিক!জবা ফুলের পরাগায়ন, এমিবার প্রজনন, ব্যাপন-সালোকসংশ্লেষন আর পিথাগোরাসের থিউরি শিখে আমার কি লাভ হইছে? কোন দাহ্য পদার্থের আগুন কেম্নে নিভাইতে হয়, স্ট্রোকের রোগীরে কেম্নে হাস্পাতালে নিতে হয়, পিসিতে অভ্র ক্যাম্নে ইনস্টল করতে হয় এইসব তো নিজে থেকেই শিখতে হল! আমার কি লাভ হইল তা আজো বুঝিনি।তবে যে দেশে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষিত একজন যুবা নিজ পায়ে দাড়ানোর সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থ, সেদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার যে আশু তা বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হইতে হয় না।

একটি অলীক প্রস্তাবনা

পাচ বছর হলেই বাচ্চা স্কুলে যাবে। দুরের হাইফাই স্কুলে না, যেখানে বাচ্চার চে স্কুল ব্যাগ বড়; বরং বাড়ির নিকটস্থ যে কোন স্কুলে। ক্লাশ ওয়ান থেকে থ্রি পর্যন্ত স্কুল শিখাবে বর্নমালা, ছড়া, আর শিখাবে কেম্নে রাস্তা পার হতে হয়, কেম্নে মুরুব্বি দেখলে সালাম দিতে হয়, কেম্নে লাইনে দাড়াতে হয়, আগে যে আসে তারে আগে সুযোগ দিতে হয়, এইসব। নো হোম ওয়ার্ক। বই আর খাতা স্কুলেই থাকবে, স্কুল ব্যাগ বলতে কিছু থাকবেনা। সে আম গাছের নিচে যাবে, গাছ চিনবে, আম চিনবে, গাছের তলায় বইসা আমের ছবি আকবে , ছবির নিচে লিখবে আম, তারনিচে লেখবে ম্যাংগো। মানে, টার্গেট হবে নৈতিক শিক্ষা আর প্র্যাক্টিকাল ওরিয়েন্টেশন। আর শিখবে নাচ, গান, ছবি আকার মত ললিত কলা।

ক্লাশ ফোর আর ফাইভে চলবে ওরিয়েন্টেশন উইথ সারাউন্ডিংস। মানে দলে দলে প্রতিদিন স্কুলের এই বাচ্চারা থানা দেখতে যাবে, কোর্ট চিনবে, আইটি ফার্ম দেখবে, ক্যান্টন্মেন্ট চিনবে, মসজিদ মন্দির চিনবে, ব্যাঙ্ক চিনবে, কারখানা চিনবে, বাজার চিনবে। আর শিখবে কোথায় কিভাবে চলতে হয়, কি দেখতে কেমন। পোঙ্গটা পুলাপাইন বান্দরামি করবে কিন্তু একটা বেইজ আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হবে। ক্লাশ সিক্স থেকে এইট ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলেই থাকবে, এইবার বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠানেরা বছরজুড়ে অন্তত একবার করে তাদের এলাকার প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেম্পেইনে যাবে। সিভিল সার্ভিস, টেলিকম, ব্যাঙ্ক, বীমা, গার্মেন্টস, পুলিশ, আর্মি, উকিল সব পেশার প্রতিনিধিরা যাবেন। সহজ ভাষায় বলবেন কিভাবে ব্যাঙ্কে একাউন্ট খুলতে হয়, কেম্নে থানায় জিডি করতে হয়, কিভাবে মোবাইলে টাকা পাঠায় ইত্যাদি। সংস্লিস্ট হাই স্কুল গুলোতে কোর্ট, থানা, ব্যাংক, জেলা প্রশাসন, টেলিকমিউনিকেশন্স, গার্মেন্টস আর মানবাধিকার সংস্থা গুলোর পিরিয়ডিক প্রেসেন্টেশন বাধ্যতামুলক করা উচিত। এই ক্লাশে ছাত্ররাই ঠিক করুক কে কি হতে চায়।

ক্লাশ নাইন টু টেন এরা সব শিখবে, নো সায়েন্স আর্টস কমার্স। বাইলজির এমিবা প্রজনন শিখুক আর না শিখুক, বাড়িতে কারো হাত পুড়লে কি প্রাথমিক চিকিতসা সেইটা জানবে; ফিজিক্সে ই ইকুয়াল টু এমসি স্কোয়ার বুজুক আর নাই বুজুক, বাসার ফিউজড বাল্ব বদলাইতে জানবে; সারনি মুখস্ত হোক বা না হোক, অক্টেন-ডিজেল আলাদা চিনতে পারবে, কম্পিউটার জানবে, গাড়ির টায়ার বদলাইতে জানবে, ছোট খাট দোকানের হিসাব রাখতে জানবে, ট্যাক্স দিতে জানবে। টার্গেট হল সোসাইটিতে চলতে শিখবে।

ক্লাশ ইলেভেন আর টুয়েলভ এ তারে যোগ্যতা অনুযায়ী হায়ার স্টাডিজের জন্য রেডি করা হবে। কেউ যদি ডাক্তারি পরার লায়েক হয়, এইবার সে ঘাড় মুর ভাইঙ্গা বাইলজি পড়বে, সাথে বাধ্যতামুলক যে কোন একটা হাসপাতালে পার্ট টাইম মেডিকের কাজ করে টু পাইস কামাবে। যদি চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হতে চায় নিকটস্থ একটা ব্যাংকে পার্ট টাইম ক্লার্কের চাকরি করতে হবে কমার্স পড়ার পাশাপাশি।

ক্লাশ টুয়েলভ শেষে স্কুল পরীক্ষার পাশাপাশি ঐ হাসপাতালের ডাক্তারের অথবা ঐ ব্যাংকের ম্যানেজারের একটা সার্টিফিকেট লাগবে। উনি যদি সার্টিফাই করেন যে এই ছেলে ডাক্তার/ সিএ পড়ার ম্যাটেরিয়াল, সরকার নিখরচায় তারে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াবে। উনারা যদি সার্টিফাই না করেন তাহলে তাকে আগে লোয়ার গ্রেডে জব করে নিজ খরচে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ নিতে হবে।

এই অলীক প্রস্তাবনার একটা স্ট্রাকচারড আর ফিজিবল প্ল্যান

লেভেলঃ১ (১ম থেকে ৩য় শ্রেণী)

১। কোর অব্জেক্টিভঃ

বর্ণমালা শিক্ষা, মৌলিক সৌজন্য শিক্ষা, মৌলিক ধর্মাচার ও নৈতিক শিক্ষা, মৌলিক ললিতকলা এবং শরীরচর্চা শিক্ষার সাথে পরিচিতি।

২। বেসিক কন্সেপ্টঃ

ক। প্রাইমারি পর্যায়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বই-খাতা স্কুলেই থাকবে, এবং কোন ‘হোম ওয়ার্ক’ থাকবে না; ফলে শিশুদের ‘স্কুল ব্যাগ’ বহন করতে হবেনা।

খ। বর্ণমালা শিক্ষার জন্য শিশুকে আম গাছের নিচে নিয়ে যেতে হবে, সে আমগাছ চিনবে, আম চিনবে, গাছের তলায় বসে আমের ছবি আকবে , ছবির নিচে ‘আম’ লিখা শিখবে, এবং আমের ইংরেজি যে ‘ম্যাংগো’ তা জানবে।

গ। মৌলিক সৌজন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুরা শিখবে কিভাবে গুরুজন/মুরুব্বিদের সালাম/অভিবাদন করতে হয়, কিভাবে বিভিন্নক্ষেত্রে লাইনে দাড়াতে হয় এবং আগে যে আসে তাকে আগে সুযোগ দিতে হয়, কিভাবে রাস্তায় চলাচল করতে হয় এবং রাস্তা পার হতে হয় ইত্যাদি।

ঘ। প্রচলিত সব ধর্মের প্রধান ধর্মাচারের সাথে সব শিশুকে পরিচিত করতে হবে যেন সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা গড়ে ওঠে। পাশাপাশি সত্যবাদিতা, সহমর্মিতার মত মৌলিক মূল্যবোধ আর নৈতিক শিক্ষার সাথে তাদের গল্পচ্ছলে পরিচিত করে তুলতে হবে যেন তাদের চরিত্রগঠন প্রক্রিয়াটি ইতিবাচকভাবে শুরু হয়।

ঙ। আবৃতি, চিত্রাঙ্কন, গান ও নাচের মাধ্যমে শিশুদের ললিতকলা চর্চা ও বিকাশে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

চ। স্কুলে শরীরচর্চা ও খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ করে দিতে হবে যেন শৈশবেই স্বাস্থ্য সচেতনতার বীজ বুনে দেয়া যায়। ছ। সকল প্রাইমারি স্কুলের সিলেবাস এবং শিক্ষাদান পদ্ধতিতে কঠোর নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে একই মান নিশ্চিত করতে হবে যেন অভিভাবকেরা তথাকথিত ‘ভাল স্কুল’ এ সন্তান ভর্তির জন্য উদগ্রীব না হয়ে সচ্ছন্দ্যে বাড়ির নিকটস্থ স্কুলে ভর্তি করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

লেভেলঃ২ (৪র্থ থেকে ৫ম শ্রেণী)

১। কোর অব্জেক্টিভঃ

ওরিয়েন্টেশন উইথ সারাউন্ডিংস বা পারিপার্শ্বিকতার সাথে পরিচিতি।

২। বেসিক কন্সেপ্টঃ ক। স্কুলের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীরা রুটিন মত দলবেধে থানা, কোর্ট, আইটি ফার্ম, ক্যান্টনমেন্ট, মসজিদ, মন্দির, ব্যাঙ্ক, কারখানা, বাজার, স্টেডিয়াম ইত্যাদি পরিদর্শনে যাবে এবং কোথায় কিভাবে চলতে হয় সে সম্পর্কে তাদের একটা বেইজ আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হবে।

লেভেলঃ ৩ (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী)

১। কোর অব্জেক্টিভঃ

বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা/সংগঠনের উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের ভবিষ্যত পেশাজীবনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি।

২। বেসিক কন্সেপ্টঃ

বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠানেরা বছরজুড়ে অন্তত একবার করে তাদের এলাকার প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেম্পেইনে যাবে। সিভিল সার্ভিস, টেলিকম, ব্যাঙ্ক, বীমা, গার্মেন্টস, পুলিশ, আর্মি, উকিল সব পেশার প্রতিনিধিরা যাবেন। সহজ ভাষায় বলবেন কিভাবে ব্যাঙ্ক/এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে হয়, কিভাবে থানায় জিডি করতে হয়, কিভাবে মোবাইলে টাকা পাঠায় ইত্যাদি। সংস্লিস্ট হাই স্কুল গুলোতে কোর্ট, থানা, ব্যাংক, জেলা প্রশাসন, টেলিকমিউনিকেশন্স, গার্মেন্টস আর মানবাধিকার সংস্থা গুলোর পিরিয়ডিক প্রেসেন্টেশন বাধ্যতামুলক করা উচিত। এই ক্লাশে ছাত্ররাই ঠিক করুক ভবিষ্যতে কে কি হতে চায়।

লেভেলঃ ৪ (৯ম থেকে ১০ম শ্রেণী)

১। কোর অব্জেক্টিভঃ

পরিবার ও সমাজে আত্মবিশ্বাসের সাথে একজন মৌলিক বাস্তব বুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

২। বেসিক কন্সেপ্টঃ

এই লেভেলে সকল শিক্ষার্থী বেসিক সায়েন্স, আর্টস ও কমার্স পড়বে ও জানবে। বাইলজির এমিবা প্রজনন এর পাশাপাশি বাড়িতে কারো হাত পুড়লে কি প্রাথমিক চিকিতসা দিতে হয় তা শিখবে; ফিজিক্সে ই ইকুয়াল টু এমসি স্কোয়ার এর পাশাপাশি বাসার ফিউজড বাল্ব বদলাতে জানবে; রসায়নের সারনি মুখস্ত করার পাশাপাশি অক্টেন-ডিজেল-কেরোসিন আলাদা করে চিনতে পারবে, কম্পিউটার জানবে, গাড়ির টায়ার বদলাতে জানবে, ছোট খাট দোকানের হিসাব রাখতে জানবে, ট্যাক্স দিতে জানবে।

লেভেলঃ ৫ (১১শ থেকে ১২শ শ্রেণী)

১। কোর অব্জেক্টিভঃ

উচ্চ মাধ্যমিক পাশ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে উপার্জনক্ষম নাগরিকে পরিনত করা।

২। বেসিক কন্সেপ্টঃ

ক। এ পর্যায়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী হায়ার স্টাডিজের জন্য প্রস্তুত করা হবে। কেউ যদি ডাক্তারি পরার যোগ্য হয়, তাহলে সে বাইলজি পড়বে, পাশাপাশি উপযুক্ত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ল নিকটস্থ যে কোন একটি হাসপাতালে বাধ্যতামুলক পার্ট টাইম মেডিকের কাজ করবে।

খ। যদি কেউ চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হতে চায় তাহলে তাকে কমার্স পড়ার পাশাপাশি নিকটস্থ একটা ব্যাংকে পার্ট টাইম ক্লার্কের চাকরি করতে হবে।

ক্লাশ টুয়েলভ শেষে স্কুল পরীক্ষার পাশাপাশি ঐ হাসপাতালের ডাক্তারের অথবা ঐ ব্যাংকের ম্যানেজারের একটা সার্টিফিকেট লাগবে। উনি যদি সার্টিফাই করেন যে এই ছেলে ডাক্তার/ সিএ পড়ার ম্যাটেরিয়াল, সরকার নিখরচায় তারে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াবে। উনারা যদি সার্টিফাই না করেন তাহলে তাকে আগে লোয়ার গ্রেডে জব করে নিজ খরচে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ নিতে হবে। খালি ভাবেন একবার, ইন্টারের রেজাল্টের পর ছাত্রছাত্রী নিজের উপার্জিত পয়সায় বাবা মা ভাই বোন আত্মীয় বন্ধুদের মিস্টি কিনে খাওয়াচ্ছে…

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *