Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

উহানের মাছ বাজার থেকে উঠে আসা ক্ষুদ্র একটা ভাইরাস অথচ দ্যাখেন চীন আমেরিকা সহ সারা দুনিয়াকে তটস্থ করে রেখেছে! এর কোনো প্রতিকার-প্রতিষেধক খুঁজে পাচ্ছে না কেউ!
তবে আশার কথা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাকই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, সব জাগতিক সমস্যারই তিনি কোনো না কোনো সমাধান লুকিয়ে রেখেছেন (সুরা আল-ইনশিরাহ) আর উনি কাউকে এমন কোনো কষ্ট বা সমস্যা দেন না যা সইবার ক্ষমতা তিনি তাকে দেননি (সুরা বাকারাহ)। সর্বোপরি, মানুষ হিসেবে আমরা আল্লাহ পাকের খুবই প্রিয় এক সৃষ্টি (সুরা আল-ইমরান)!
তাই আসুন, সবাই ধৈর্য ধরি আর তার রহমত কামনা করি!

পুনশ্চঃ
WHO সহ দেশ বিদেশের ডাক্তার আর বিজ্ঞানীরা যেসব প্রিকোশন সাজেস্ট করছে, তার সবই বেসিক পরিচ্ছনতার কথাবার্তা। সেকারনেই হয়ত আমরা বলি ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ!’

এক নজরে করোনা ভাইরাসঃ
👉নামঃ করোনা ভাইরাস (coronavirus), কেতাবি নাম SARS-CoV-2 ল্যাটিন শব্দ করোনা মানে ‘ক্রাউন’ বা মুকুট। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।
👉আবিস্কারঃ ৬০ এর দশকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে সর্ব প্রথম এর প্রাদুর্ভাব টের পাওয়া যায়। পরে সাধারণ সর্দিকাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেও এই ভাইরাস ধরা পরে।
👉ইতিহাসঃ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে চীনের উহান শহরে সাম্প্রতিকতম করোনাভাইরাসের সংক্রামণ দেখা দেয়। ইতোমধ্যে ০৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত সারাবিশ্বে ১,০৭, ৩৫১ জন আক্রান্ত এবং ৩,৬৪৬ জন মারা গেছে। ভাইরাসটি সাপ/বাদুর কিংবা এমন কোন প্রাণীর দেহ থেকেই মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে ছড়াতে আবার নিজের জিনগত গঠনে সবসময় পরিবর্তন আনছে – যাকে বলে মিউটেশন।
সংক্রমনঃ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে কিংবা তার হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে।
লক্ষণঃ জ্বর, অবসাদ, শুষ্ক কাশি, শ্বাস কষ্ট, গলা ব্যাথা, পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস ও কিডনিতে সমস্যাসহ নানা ধরনের জটিলতা। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপরোক্ত সকল উপসর্গ দেখা গেলেও জ্বর থাকেনা।
চিকিৎসাঃ নাই।
👉করনীয়ঃ
•যেকোনো সর্দি–কাশি, জ্বর বা অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত ফুট তিনেক দূরে থাকুন।
•সাবান দিয়ে ধুয়ে হাত পরিস্কার রাখুন।
•অপরিষ্কার হাত দিয়ে কখনো নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ করবেন না।
•ভ্রমন আর জমায়েত পরিহার করুন।
•হ্যান্ডশেক পরিহার করুন।
•গুজবে কান দেবেন না। সন্দেহ হলে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১ তে ফোন করুন।

আমাদের প্রিয় নবীজি (ﷺ) বলে গেছেন, “যদি শুনো যে কোনো এলাকায় মহামারী দেখা দিয়েছে, সেখানে যেও না। আর যদি তোমার এলাকায় মহামারী দেখা দেয় তাহলে তুমি নিজের এলাকা ছেড়ে অন্যকোথাও যেও না” (কারন তাতে মহামারী আরো ছড়িয়ে পরবার আশংকা থাকে)।
যারা অলরেডি আক্রান্ত তাদের কোয়ারেন্টাইন আর চিকিৎসা তো করতেই হবে। সেই সাথে এই মহামারীর ছড়িয়ে পরা রোধ করাটা একই রকমভাবে জরুরী। তবে ‘কপিক্যাট’ জাতি হিসেবে আমরা সবসময় অপেক্ষায় থাকি অন্যরা কে কি করছে তা দেখার। এটা আমাদের সতর্কতা না মোটেই, বরং প্রোএক্টিভ ভাবে ভাবতে আর সে ভাবনাকে কার্যকর করতে আমরা এখনও শিখিনি।
যাহোক, পাব্লিকদের আপাতত ঘরে আটকে রাখা জরুরী আর তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু স্টেপ নেয়া যেতেই পারে, যেমনঃ

১। আগামী ৭ অথবা ১৪ দিনের জন্য ইন্টারনেট ফ্রি করে দিন যেন লোকজন ঘরে বসে আনলিমিটেড গেমস আর মুভি ডাউনলোড করতে পারে আর এঞ্জয় করতে পারে। এই টাকাটা সরকার ভর্তুকি দিতেই পারে।
২। স্কুল/কলেজ কর্তৃপক্ষ অনলাইনে কিছু ক্লাস-কুইজ চালিয়ে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ক্যাপাসিটি খানিকটা ঝালিয়ে নিতে পারে।
৩। এইবার সত্যিকারে টেস্ট করা সম্ভব কারা কতটা রিমোট অফিস করতে বা করাতে সক্ষম। যেসব চাপাবাজরা ইমেইল পর্যন্ত করতে পারে না অথচ আওয়াজে ইহুদী ক্যাম্প পোড়াইয়া ফেলেন, এই ঠ্যালায় তারা অন্তত পেপারলেস রিমোট অফিস কসেপ্টটা বুঝবে।
৪। টিভিতে লেটেস্ট দেশি-বিদেশী মুভি/সিরিয়াল বিল্কুল ফ্রিতে প্রচার করুন। ২৪ কিংবা গেম অফ থ্রোনস এর মত সিরিয়াল পেলে দেখবেন কেউ কেউ বিছানা ছেড়েই উঠছে না।
৫। আগামী ১ মাসের সব ধরনের ট্যাক্স/বিল এর জরিমানা মওকুফ করে দিন।
৬। হোম ডেলিভারি খাতে প্রনোদনা বাড়ান।
৭। লোকেশন ডেটা ইউজ করে প্রত্যেক ইউনিয়নের চ্যাম্পিয়ন আর রানার আপ ‘গৃহী’ কাপল এনাউন্স করুন।

হাদিস রেফারেন্সঃ
“If you hear of an outbreak of plague in a land, do not enter it; but if the plague breaks out in a place while you are in it, do not leave that place.”
Sahih al-Bukhari 5728

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *