Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

‘রিফিউজি’ আর ‘আইডিপি’র ভেতর সামান্য তফাৎ আছে। জানের মায়ায় যখন কেউ ভিটেমাটি ছেড়ে নিজের দেশেই অপেক্ষাকৃত সেইফ এলাকায় মাইগ্রেট করে, তখন তাকে বলে ‘আইডিপি’ মানে ‘ইন্টারনালি ডিস্পলেসড পার্সোন/পিপল’; সিভিল ওয়ারজনিত কারণে কঙ্গো, কার, কাশ্মীর, সিরিয়া, আফগানিস্তান, বার্মাসহ সারাবিশ্বে ৩৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ আজ আইডিপি। আর এই ঘরছাড়া মানুষগুলো যখন দেশছাড়া হয়ে অন্য দেশে মাইগ্রেট, তখন ওরা হয়ে যায় ‘রিফিউজি’। যেমন ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান ইহুদিরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা ভারতে, কিংবা বার্মায় এথনিক ক্লিঞ্জিং-এর সময় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে রিফিউজি হিসেবে আশ্রয় নেয়।

মানুষ নিরাপদ আর উন্নততর এলাকায় মাইগ্রেট করে, অবশ্য কেউ স্বেচ্ছায় ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে মাইগ্রেট করে, কেউ রিফিউজি হয়ে। মায়ানমারে প্ল্যানড রোহিঙ্গা ক্লিঞ্জিং-এর সাথে অনেকে হিটলারের ইহুদি নিধন ‘দ্য হলোকাস্ট’-এর মিল খুঁজে পান। অগত্যা অসহায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে অথবা করতে বাধ্য হচ্ছে। এই রোহিঙ্গা রিফিউজিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল বলছে সীমান্ত খুলে দাও; “৭১-এ ভারত যেমন আমাদের ঠাঁই দিয়েছিল। আরেক দল বলছে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাও, আমরা নিজেদের সমস্যা নিয়েই যথেষ্ট জর্জরিত!

বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই অনন্য এক দেশ! মহাস্থানগড় আর পাহাড়পুরের মতো হেরিটেজ আমাদের ছিল, বিখ্যাত মসলিন আমরাই বানাতাম, আমরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি, নয় মাসে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি, আমাদের আছে লংগেস্ট স্যান্ডি সি বিচ, ক্রিকেট আর শান্তিরক্ষায় আমরাই উঠতি পরাশক্তি! আমির খানের “থ্রি” ইডিয়টস” মুভিটা দারুণ! ঐ মুভিতে একটা ডায়লগ আছে, “দোস্ত পরীক্ষায় ফেইল করলে অনেক কষ্ট লাগে, কিন্তু পরীক্ষায় ফার্স্ট হইলে আরও বেশি কষ্ট লাগে!” ওয়ার্ল্ড ইকোনমি আর ডিপ্লোম্যাসিতে বাংলাদেশ দিনকে দিন প্রমিনেন্স গেইন করবে আর বার্মারা বসে বসে বার্মিজ আচার চুষবে, এমনটা ভাবাই ভুল। বরং বর্ডার বরাবর এক বন্ধু ফেন্সিডিলের ফ্যাক্টরি, আরেক বন্ধু ইয়াবার কারখানা বসায়া দিবে এইটাই হয়তো স্বাভাবিক, যেমন থ্রি ইডিয়টে ‘চতুর ত্রিবেদী’ পরীক্ষার আগের রাতে বন্ধুদের রুমের দরজার নিচ দিয়ে চটি সাপ্লাই করত যেন ওরা পড়ায় মন দিতে না পারে।

রোহিঙ্গারা কোন ধর্মাবলম্বী তার চেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট একটা এথনিসিটি হারিয়ে যেতে বসেছে। আমরা লুপ্তপ্রায় পশু-পাখি নিয়ে সোচ্চার, অথচ রোহিঙ্গাদের ক্রমবিলুপ্তি নিয়ে নির্বিকার প্রায়! প্রত্যেক মানুষেরই বাঁচার অধিকার আছে, যেকোনো পশু-পাখির চেয়ে অনেক অনেক বেশি করেই আছে। কিন্তু জেনেভা ক্যাম্পে আটকে পড়া পাকিস্তানি রিফিউজিদের পাশাপাশি লাখোলাখো রোহিঙ্গা রিফিউজি পুষবার সার্মথ্য কি আমাদের অর্থনীতির আছে? ‘৭১ এ ভারত তার নিজস্ব তাগিদেই সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, আর যুদ্ধ শেষে আমাদের রিফিউজিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেও এসেছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা কী কখনো ফিরে যাবে? তাই দুইটাকে একই ইস্যু ভাবাটা বোধহয় ঠিক হবে না।

রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি আরাকান ছিল স্বাধীন রাজ্য। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোডপায়া এটি দখল করে বার্মার অধীন করদ রাজ্যে পরিণত করেন।
আরাকান রাজ্যের রাজা বৌদ্ধ হলেও তিনি মুসলমান উপাধি গ্রহণ করতেন। তার মুদ্রাতে ফারসি ভাষায় লেখা থাকত কালেমা।
আরাকান রাজদরবারে কাজ করতেন অনেক বাঙালি মুসলমান। বাংলার সাথে আরাকানের ছিল গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক।
ধারণা করা হয় রোহিঙ্গা নামটি এসেছে আরাকানের রাজধানীর নাম ম্রোহং থেকে : ম্রোহং>রোয়াং>রোয়াইঙ্গিয়া>রোহিঙ্গা। তবে মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে ডাকা হতো রোসাং নামে।

১৪০৬ সালে আরাকানের ম্রাউক-উ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নরমিখলা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ে পলায়ন করেন। গৌড়ের শাসক জালালুদ্দিন শাহ্ নরমিখলার সাহায্যে ৩০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে বর্মি রাজাকে উৎখাতে সহায়তা করেন। নরমিখলা মোহাম্মদ সোলায়মান শাহ্ নাম নিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসেন। ম্রাউক-উ রাজবংশ ১০০ বছর আরাকান শাসন করেছে।

মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল রোসাং রাজদরবার। মহাকবি আলাওল রোসাং দরবারের রাজকবি ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন মহাকাব্য পদ্মাবতী। এছাড়া সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী, সয়ফুল মুল্ক, জঙ্গনামা প্রভৃতি কাব্যগ্রš’ রচিত হয়েছিল রোসাং রাজদরবারের আনুকূল্যে।
ভাই আওরঙ্গজেবের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরাজিত হয়ে মোগল যুবরাজ শাহ্ সুজা ১৬৬০ সালে সড়কপথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে আরাকানে পলায়ন করেন। তৎকালীন রোসাং রাজা চন্দ্র সুধর্মা বিশ্বাসঘাতকতা করে শাহ্ সুজা এবং তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এর পর আরাকানে যে দীর্ঘমেয়াদি অরাজকতা গৃষ্টি হয় তার অবসান ঘটে বার্মার হাতে আরাকানের স্বাধীনতা হরণের মধ্য দিয়ে।
(সূত্র : রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস, এন. এম. হাবিব উল্লাহ্, এপ্রিল, ১৯৯৫)

ইতিহাসে এটা জানায় যে, ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীন রাজ্য ছিল। মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়। এক সময়ে ব্রিটিশদের দখলে আসে এ ভূখ-। তখন বড় ধরনের ভুল করে তারা এবং এটা ইচ্ছাকৃত কি না, সে প্রশ্ন জ্বলন্ত। তারা মিয়ানমারের ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ ধরনের বহু ভুল করে গেছে ব্রিটিশ শাসকরা।

১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে মিয়ানমারের যাত্রাপথ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। রোহিঙ্গাদের জন্য শুরু হয় দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়। সামরিক জান্তা তাদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ধর্মীয়ভাবেও অত্যাচার করা হতে থাকে। নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। হত্যা-ধর্ষণ হয়ে পড়ে নিয়মিত ঘটনা। সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়। বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হতে থাকে। তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই। বিয়ে করার অনুমতি নেই। সন্তান হলে নিবন্ধন নেই। জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। সংখ্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আরোপিত হয় একের পর এক বিধিনিষেধ। মিয়ানমারের মূল ভূখ-ের অনেকের কাছেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ‘কালা’ নামে পরিচিত। বাঙালিদেরও তারা ‘কালা’ বলে। ভারতীয়দেরও একই পরিচিতি। এ পরিচয়ে প্রকাশ পায় সীমাহীন ঘৃণা।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় “বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রত্যাশিত জনপদ” এবং “বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু”। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন। তারা সরকারি অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এবং দুটির বেশি সন্তান না নেওয়ার অঙ্গীকারণামায় স্বাক্ষর করতে হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুসারে, ১৯৭৮ সাল থেকে মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছে এবং তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। আচ্ছা, রোহিঙ্গারাও কি আদিবাসী?

মগদের টরচার টেকনিক
মগদের টরচারের টেকনিকটাই এমন যে ভিক্টিমরা বাড়িঘর ফেলে পালাতে বাধ্য হয়; ব্যাপারটা ঐতিহাসিক ভাবেই স্বীকৃত! টেকনাফ ধরে পোরাস বর্ডার পেরিয়ে আরও দক্ষিণে নেমে গেলেই রাখাইন রাজ্য, পাইরেসিতে ওরা আগে থেকেই এক্সপার্ট ছিল। চট্টগ্রাম আর সন্দ্বীপকে লঞ্চিং প্যাড বানিয়ে ওরা চট্টগ্রাম টু সাতক্ষীরা কোস্ট লাইন বরাবর অত্যাচার আর নির্মমতার ‘মগের মুল্লুক’ বানিয়ে ফেলেছিল! এমনকি ঢাকা পর্যন্ত নদীর দুই পাশের বাড়িঘরের মানুষ রাতে বাতি জ্বালত না মগদের অতর্কিত হামলার ভয়ে।

দ্রুতগতির নৌযান নিয়ে এরা গ্রামের পর গ্রাম লুটপাট চালাত আর লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দিত। বন্দি যুবক-যুবতিদের ধরে নিয়ে হাতের তালু ও পায়ের পাতা ফুটো করে বেত দিয়ে বেঁধে পাটাতনের নিচে গাদাগাদি করে হাঁস-মুরগির মতো ফেলে রাখত; পরে দাস বানিয়ে রাখত অথবা অন্য কোথাও বিক্রি করে দিত। এইসব অপকর্মে মগদের পার্টনার ছিল পর্তুগিজরা।

১৬৬৪ সালে মোগলসুবেদার শায়েস্তা খান বাংলার দায়িত্ব টেক ওভার করার পর প্রথমেই যে লিমিটেশনটা নোটিশ করলেন, তা হলো, মগদের এগেইন্সটে বাংলার মোগল সেনাদের কোনো স্ট্রং নেভি নেই, আর মগরা যেকোনো মূল্যে ল্যান্ড ব্যাটেল অ্যাভোয়েড করে চলত। তাই শায়েস্তা খান শুরুই দুটো স্মার্ট মুভ দিলেন। একবেঙ্গল নেভিকে শক্তিশালী করায় মনোযোগ দিলেন। দুই মগ-পর্তুগিজ এলায়েন্স ভাঙতে যা যা করণীয় করতে শুরু করলেন।

এক বছর পর শায়েস্তা খান স্থল ও নৌপথে একযোগে মগদের আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিলেন। ভুলুয়া ছিল তার এন্সিউয়িং ক্যাম্পেইনের অপারেটিং বেইজ। তার ছেলে বুজুর্গ উমেদ খান ছিলেন ল্যান্ড ফোর্সেস কমান্ডার আর ইবনে হোসেন ছিলেন নেভাল এক্সপিডীশন কমান্ডার। শায়েস্তা খান নিজে রইলেন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে।

নেভাল এক্সপিডীশনের জন্য একটা নেভাল বেইজ দরকার ছিল, তাই ১৬৬৫ সালের নভেম্বরে তিনি সন্দ্বীপ দখল করে নেন। এরপর ডিসেম্বরে একযোগে তিনি তার অফেন্সিভ লঞ্চ করেন। ডিসাইসিভ কর্নফুলির নৌযুদ্ধে মগরা হার মানে এবং চট্টগ্রাম দুর্গে আশ্রয় নেয়। শায়েস্তা খান এবার হাটহাজারিতে আট হাজার সেনা আর দোহাজারিতে দুই হাজার সেনা ডেপ্লয় করে প্রথমে চট্টগ্রামে মগ রিইনফোর্স্মেন্ট ডিনাই করে নিয়ে বাকি সৈন্যদের চট্টগ্রাম দুর্গ অবরোধ করার অর্ডার দিলেন। ফাইনালি, ১৬৬৬ সালের ২৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামে মগ দুর্গ পতন হয়। কিন্তু হেরে গেলেও টরচার টেকনিকে মগদের হিং¯্রতা তো মজ্জাগত, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভিটেমাটি ফেলে পালিয়ে আসার ঢল দেখে বারবার সে কথাই মনে পড়ে…

উসকানি
মো. জেনারেল ডি. কে. পালিতের লেখা ‘দ্য লাইটেনিং ক্যাম্পেইন’ বই-এর লাস্ট চ্যাপ্টারে বাংলাদেশের টেরেইন নিয়ে একটা সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা আছে। ডি. কে. পালিতের দাবি, ‘বাংলাদেশ ইজ আ ডিফেন্ডারস প্যারাডাইজ! স্পেশালি বর্ষায় তো প্রায় অজেয়!’ ‘৭১ এ পাকিরা তড়িঘড়ি করে ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে ইন্ডিয়ার কাছে সারেন্ডার করেছিল, কারণ পাকিরাও বুঝে গিয়েছিল যে আরেকটা বর্ষা পর্যন্ত বাংলায় থাকতে হলে ‘মুলক-ঈ-ফাকিস্তানে’ ফেরত যাওয়ার জন্য হয়ত ৯৩টা শিশ্নও আর অবশিষ্ট থাকত না; মুক্তিযোদ্ধাদের এমনি তেজ!

মিয়ানমার ধুঁকছে, মিয়ানমার ফুঁসছে; নিজের যন্ত্রণায়! যেকোনো রাষ্ট্র সাধারণত দুই কারণে যুদ্ধবাজ হয়ে ফোঁসফোঁসায়; এক যখন ভার্সাই চুক্তির মতো কোনো ইউনিক কারণে সারাদেশে অভুতপূর্ব কোনো ক্যুভেনিজম গড়ে ওঠে, আর ওভার কনফিডেন্সের কারণে হিটলারদের মনে সীমান্ত সম্প্রসারনের খায়েশ জাগে। দুই দেশের জনগনের মাঝে বিদ্যমান বিভক্তি আর অনৈক্যের মতো ইন্টার্নাল ক্রাইসিসের কারণে যখন কোনো রাষ্ট্র হন্যে হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়বার একটা উপায় খুঁজতে থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধাবস্থা টনিকের মতো কাজ দেয়! মগেরা ভালো করেই জানে নিজেদের লক্ষন রেখার বাইরে বাঙলদের কোনো আগ্রহই নেই, কিন্তু লক্ষণ রেখার ভেতরে গিয়ে বাঙালদের সাথে পেরে ওঠা অসম্ভব।

রাখাইনে মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে এথনিক ক্লিঞ্জিং করে যাচ্ছে; অধুনা তথ্য প্রযুক্তি আর মিডিয়ার কল্যাণে ব্যাপারটা জাতিসংঘসহ সারা বিশ্বের কাছেই এখন এভিডেন্ট। তাই মগরা এখন চাইছে সবার নজর রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে সরিয়ে দিতে; চাইছে উস্কানি দিয়ে বঙ্গের সাথে ট্যাক্টিক্যাল লেভেলে যুদ্ধযুদ্ধ খেলতে; সুচিরা উদগ্রীব হয়ে একথা বলার চান্স খুঁজছে যে ‘রাখাইনে আমরা কিস্যু করিনি, মাইরি! সবই কোলেটেরাল ড্যামেজ বই কিছুই না। আদতে বাংলাই ওদের জ্ঞাতিভাইদের উছিলা দিয়ে রাখাইন জব্বরদখল করতে এসেছিল। তখন আমরা পিনিক হয়ে সিরিফ নিজেদের মুলক বাঁচাতে জান বাজি রেখে লড়েছিলুম। ঘটনা চক্রে ব্যাটেল্ফিল্ডটা ছিল রাখাইনেই, তাই যুদ্ধযুদ্ধ খেলার সময় কিছু কোলেটেরাল ড্যামেজ ঘটে গেছে, এই আরকি!’ কিন্ত, সমস্যা হলো এতবার উসকানি দেওয়ার পরও নচ্ছার বাঙালরা যে ট্যাক্টিক্যাল লেভেলে নামছেই না; খেলছে পুরাই স্ট্রেটেজিক লেভেলে!

ট্রিভিয়া
👉মায়ানমারের ১৪টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৯টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ চলছে! বিদ্রোহী গ্রুপের সংখ্যা সাকুল্যে ২২টি!
👉সম্রাট অশোক মগধ জয়ের পর অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আরাকানে পালিয়ে আসে। মগধ>মঘ>মগ। ১৪৩৩ সালে বাংলার সুলতান জালালুদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর পর আরাকানের রাজা ১৪৩৭ সালে রামু দখল করে। ১৪৫৯ সালে চট্টগ্রাম দখল করে এবং ১৫৫৫ সালের মধ্যে ফেনী পার হয়ে ঢাকার নিকটবর্তী অঞ্চল দখল করে নেয় এবং ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত এই বাংলায় আরাকান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সুদীর্ঘ্য ২২৯ বছরে তারা বাংলায় হিন্দু- মুসলিম নির্বিশেষে যে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালায় তারই প্রেক্ষিতে বাংলায় এই মগের মুল্লক প্রচলিত বাগধারাটির উৎপত্তি হয়।

মায়ানমার ফুঁসছে, আসলে কিন্তু ধুঁকছে নিজেরই যন্ত্রণায়…

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *