Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

‘মারফির’স ‘ল’-এর মারফি সাহেবের কথা বলছি। ঐ যে যিনি ‘এনিথিং দ্যাট ক্যান গো রং, উইল গো রং’ মানে ‘যা হওয়ার তা হবেই’; এই ফরমান জারি করে বিখ্যাত হয়ে গেলেন। ইনি নাকি যুদ্ধ নিয়েও মজার মজার ‘ল’ দিয়ে গেছেন। আদতে মারফি ছিলেন ইউএস আর্মির মেজর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্যাসিফিক থিয়েটারে ফাইটার পাইলট হিসেবে যুদ্ধও করেছিলেন।

সৈনিকদের মাঝে প্রচলিত বেশকিছু ‘ওল্ড সেইং’ এই মারফি সাহেবের বরাত দিয়ে হরদম চলছে। আসলেই এর সব মারফি বলে গেছেন কি না, আজকাল কেউ আর সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে না, কিন্তু ‘মারফি’স লজ অব কম্বেট’ নামে এইসব চালু আছে। গভীর সব বাস্তবতা এইসব ‘ল’-তে বেশ রম্য ঢয়ে বলা আছে। যেমন সৈনিকদের উদ্দেশে উনার প্রথম কথাই হলো, ‘মনে রাখবা, তুমি সুপারম্যান না।’

আবার শত্রু সৈনিকদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘প্রফেশনালরা প্রেডিক্টেবল’ মানে প্রফেশনাল সৈনিক কী করবে সেইটা তুমি আন্দাজ করলেও করতে পারবা, ‘কিন্তু দুনিয়া ভর্তি এমেচার দিয়া’, অতএব সাধু সাবধান!

কখন বুঝবেন যে আপনি যুদ্ধে আছেন? ‘যখন দেখবেন একমাত্র শত্রু ছাড়া আর সবকিছুই (সৈন্য, গোলাবারুদ, রসদ) আপনার কাছে কম কম ঠেকছে। ‘আর প্ল্যানিং-এর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘পারফেক্ট প্ল্যান বলতে কিছু নাই, পয়লা বুলেট বাইর হওয়ার পর সব প্ল্যানই গুলায়া যায়। তাই যে প্ল্যানে কোনোমতে কাজ চালনো যায়, এমন প্ল্যানরে ফালতু মনে হইলেও, আসলে কিন্তু সেইটা অত ফালতু প্ল্যান না।’


ট্যাকটিকসের ব্যাপারেও তার মতামত বেশ সোজাসাপ্টা;

১. আযাইরা নজরকাড়ার চেষ্টা কইরো না, বরং একটা বিষয় বোঝার চেষ্টা করো, শত্রুরও কিন্তু মাঝেমধ্যে গুলি শর্ট পড়ে, তখন শত্রুও বাছ-বিচার কইরা গুলি চালায়; এই নজরকাড়ার কারণে তুমি হইবা তেনাদের পছন্দের টার্গেট, তাই গুলিটা তুমিই আগে খাইবা, আর তুমি গুলি খাইলে তোমার আশেপাশের লোকজন বিরক্ত হয়। কারণ তুমি মরলে ওদেরকেই গোর দিতে হবে, না মরলে স্ট্রেচারে তোমারে শুয়াইয়া টানতে হবে হাসপাতাল পর্যন্ত। দুইটাই যুদ্ধের সময় পেইনফুল।

২. শত্রু দেইখাই আহ্লাদে আটখানা হইও না, কারণ তুমি যখন তারে দেখতেছ, মানে সেও তোমারে দেখতে পারতেছে। তুমি যেমন ভাবতেছ সে তোমার রেঞ্জের মধ্যে, তুমিও তেমনি তার রেঞ্জের মধ্যেই আছ। তাই যখনই ডাউটে থাকবা ম্যাগজিন খালি না হওয়া পর্যন্ত ফায়ার করতে থাক। আর ভুলেও তোমার চেয়ে সাহসী কারও সাথে এক ট্রেঞ্চ শেয়ার করবা না। কারণ এই আহাম্মক সাহস দেখাইতে গিয়া নিজের বিপদ ডাইকা আনবে আর বিপদ যখন তখন আসবে ওর সাথে তুমিও শ্যাষ।

৩. মনে রাখবা, সহজ রাস্তা মানেই মাইন পাতা আছে। যখন দেখবা কোনো প্রকার বাধা-বিপত্তি ছাড়াই তরতর কইরা শত্রুর বিরুদ্ধে আগাইতে পারতেছ, বুঝবা সামনেই শত্রু অ্যাম্বুশ পাইতা রাখছে। শত্রুর যে অ্যাটাককে তুমি ব্ল্যাফ ভাবতেছ, অইটাই আসল অ্যাটাক।

৪. যুদ্ধে টিম ওয়ার্ক আসলেই কাজের জিনিস, কারণ টিমে যত বেশি লোক, শত্রুর গুলি ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো টার্গেটও তত বেশি, তাই গাণিতিক হিসাবে তোমার গায়ে গুলি লাগার চান্স অপেক্ষাকৃত কম।

৫. তোমার ডিফেন্স খুব বেশি টাইট করতে যাইও না, পরে নিজেই আবার বাইর হওয়ার রাস্তা পাইবা না। অবশ্য যুদ্ধ না কইরাও যুদ্ধ জিতা যায়, কিন্তু সবসময় এই ব্যাপারে, মানে তোমারে জিততে দিতে, শত্রু কো-অপারেট নাও করতে পারে।

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

1 thought on “মারফি চাচ্চু কহেন<br>শুনে পুণ্যজন”

  1. অজয় সরকার

    “বিপদ যখন তখন আসবে ওর সাথে তুমিও শ্যাষ।” – হবে না।
    “বিপদ যখন আসবে তখন ওর সাথে তুমিও শ্যাষ।” – হবে অথবা
    “বিপদ যখন আসবে ওর সাথে তখন তুমিও শ্যাষ।” – হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *