Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ১৮      

বঙ্গভবন, বাংলাদেশ

সঙ্গত কারনেই রাশেদের ভিডিও ক্লিপটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কনফারেন্স রুমে উপস্থিত প্রত্যেককে হতবাক করে দিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীই নিরবতা ভাংলেন, ‘আফ্রিকান টেররিস্টের হাতে আমাদের একজন শান্তিরক্ষী জিম্মি এবং আগামী দশ দিনের ভেতর মালি থেকে আমাদের সব শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার না করে নিলে ওরা তাকে মেরে ফেলবে; এই হলো পরিস্থিতি। মালি সরকারের কাছে এখনও এ ব্যাপারে কোনো ইনফরমেশন নেই, ফ্রান্স, ইন্ডিয়া আর পাকিস্তানও কিছু জানেনা বলছে। আমি অলরেডি হোম মিনিস্ট্রিকে বলেছি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে দিয়ে এই টেররিস্ট গ্রুপের আইডেন্টিটি কনফার্ম করতে আর ওদের সাথে নেগোশিয়েশন স্টার্ট করার জন্য কন্টাক্ট খুঁজে বের করতে। অলরেডি ইস্তাম্বুল থেকে আমাদের দুজন এজেন্টকে মালির উদ্দেশ্যে মুভ করানো হয়েছে। ওরা ক্যাপ্টেনের লোকেশন বের করার চেষ্টা করবে এসপিওনাজ উপায়ে। তথ্য মন্ত্রনালয় চেষ্টা করছে ভিডিওটি কোথা থেকে আপ্লোড করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে। ইউএন এ ব্যাপারে কী সাহায্য করতে পারে তা জানার জন্য সেক্রেটারী জেনারেলের সাথে কথা বলার চেষ্টা চলছে।’ একটানা এতগুলো কথা বলার পর বিরতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কনফারেন্স রুমে বসা সবার উপর চোখ বুলাতে লাগলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো শুনে কনফারেন্স রুমের এক প্রান্তে বসা সাইরাসের বুকটা গর্বে ফুলে উঠল। দূর আফ্রিকার প্রত্যন্ত মালিতে সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দি অসহায় রাশেদের কন্ঠে ‘সাইরাস স্যার, বাঁচান …’ শুনে সে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। রাশেদকে বাঁচাতে তার যে কিছুই করার নেই, এই বাস্তবতা তাকে নিদারুণ মানসিক পীড়া দিচ্ছিল। এমন সময় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য যেন মুহুর্তেই তার চারপাশে আশার আলো জ্বেলে দিল। কারন প্রধানমন্ত্রী রাশেদের পাশে দাঁড়ানো মানে বাংলাদেশ ওর পাশে দাঁড়ানো, আর সাইরাসের একার পক্ষে রাশেদের জন্য কিছুই করার না থাকলেও, বাংলাদেশ চাইলে রাশেদকে জীবিত ফেরত পাওয়া সম্ভব বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস।

‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মুখ খুললেন, ‘আমরা অলরেডি আমাদের কাস্টোডিতে থাকা আজহার আজিম নামের আল কায়েদার এক সাবেক সদস্যকে ইন্টারোগেট করা শুরু করেছি। আশা করছি ওর কাছ থেকে মালিয়ান টেররিস্টদের সাথে কন্টাক্ট এস্টাব্লিস করার মত কোনো না কোন একটা ক্লু পেয়ে যাব। তবে এর পাশাপাশি আমাদের একটা কমান্ডো টিম মালি পাঠিয়ে দেয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখবার অনুরোধ করছি। নেগসিয়েশন ফেইল করলে ওরা সার্জিক্যাল অপারেশন চালিয়ে ক্যাপ্টেনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাতে পারবে হয়ত।’

সবাই সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে সেনা প্রধানের দিকে তাকাতেই তিনি চটপট জবাব দিলেন, ‘ধন্যবাদ, এ ধরনের অপারেশনের জন্য আমাদের কমান্ডোরা সবসময়ই রেডি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে মালির ডিস্ট্যান্স ৯,৬৫১ কিলোমিটার, আর এই ডিস্ট্যান্সে গিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার ক্যাপাসিটি এই মুহুর্তে আমাদের নেই। তাই রাশেদের লোকেশন কনফার্ম করার পর একোরডিংলি কমান্ডোদের লঞ্চিং প্যাড সিলেক্ট করাটাই সমীচীন হবে।’

‘তাছাড়া,’ এবার পররাস্ট্র মন্ত্রী আলোচনায় যোগ দিলেন, ‘মালি সরকার তাদের দেশে আমাদের কমান্ডোদের অপারেট করতে দিতে রাজি হবে কিনা, তাও নিশ্চিত করা জরুরী। ইউএন চাইলে হয়ত রাজি হবে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে কাউন্টার টেররিজম অপারেশন পরিচালনার ম্যান্ডেট কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউএন এর নেই।’

‘মালিতে ফ্রেঞ্চ ফোর্স ডেপ্লয়েড আছে,’ নিরাপত্তা উপদেষ্টা বললেন, ‘এবং ওদের কাউন্টার টেররিজম অপারেশন চালানোর এখতিয়ারও আছে। ওরা হেল্প করলে আমাদের জন্য অপারেট করা ইজিয়ার হবে।’

‘সমস্যা হলো ফ্রান্সের সাথে আমাদের বাইল্যাটেরাল কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা এমওইউ নেই,’ পররাস্ট্র মন্ত্রী বললেন, ‘তাই ওদের সাথে ডিস্কাস না করে ফ্রেঞ্চ কো-অপারেশনের কোনো গ্যারান্টি এই মুহুর্তে দেয়া যাচ্ছেনা।’

‘আচ্ছা, মালিতে যে আমাদের পিসকিপাররা আছে, ওরা কি কিছু করতে পারে না?’ স্বরাস্ট্র মন্ত্রী জানতে চাইলেন।

‘ওদের পক্ষে ডিসাইসিভ কিছু করা কঠিন,’ ওভারসীজ অপারেশন্সের ডাইরেক্টর মুখ খুললেন এবার, ‘কারন, পিসকিপিং কন্টিনজেন্টগুলোতে ইন্টেলিজেন্স কালেকশনের কোনো ইকুইপমেন্ট কিংবা ম্যানপাওয়ার থাকে না। আবার কাউন্টার টেররিজম ম্যান্ডেট না থাকায় ইউএনও ওদের এ ধরনের কোনো অপারেশন কন্ডাক্ট করার অনুমতি দিতে পারবে না। তাছাড়া এ ধরনের অপারেশন কন্ডাক্ট করতে এয়ার সাপোর্ট সহ যে ধরনের ফায়ার পাওয়ার থাকা দরকার, ইউএন কন্টিনজেন্টগুলোতে তা নেই।’

হঠাৎ কনফারেন্স রুম জুড়ে অস্বস্তিকর নিরবতা নেমে এলো। সবচেয়ে বেশি হতাশ বোধ করল সাইরাস। প্রায় দশ হাযার কিলোমিটার দূরে সাহারার বুকে কোথায় রাশেদকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাই এখনও জানেনা তারা। তার উপর কে, কীভাবে আর কোথা থেকে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবে তাও অনিশ্চিত। একরাশ হতাশায় হঠাৎ দুচোখে অন্ধকার দেখল সাইরাস।      

‘বেশ কিছু অপশন আমাদের হাতে আছে বলে মনে হচ্ছে,’ রাষ্ট্রপতি স্বয়ং মুখ খুললেন এবার। ‘কিন্তু প্রত্যেকটি অপশনই সাব্জেক্টেড টু সাম কনফার্মেশন। আমার মনেহয় এ ব্যাপারে ডিসিশন নেবার আগে এই কনফার্মেশনগুলো জানা দরকার। এখনকার মত আমরা কনফারেন্সে বিরতি দেব। আজ রাত আটটায় আমরা আবার বসব। মালির ব্যাপারে বিস্তারিত জানা দরকার। তাই একটা ব্রিফ রেডি করুন। ব্রিফিং আর আপডেটগুলো জানার পর আমরা আজ রাতেই একটা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার চেষ্টা করব। সবাইকে ধন্যবাদ।’

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *