Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ১৯        

কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, মিন্টো রোড, ঢাকা, বাংলাদেশ

ইন্টারোগেশন সেলের দরজাটা সশব্দে খুলে যেতেই ভেতর থেকে গলদ্ঘর্ম ইন্সপেক্টর মনোয়ারকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। কুনুই অবধি গুটানো শার্টের হাতা টেনে নামাতে নামাতে সামনের টেবিলের ওপাশে বসা অতিরিক্ত উপকমিশনার মোতালেবের উদ্দেশ্যে বলল, ‘দারুণ শক্ত চিজ, স্যার। মুখে একেবারে কুলুপ এটে বসে আছে!’

নিজের চেয়ারে বসা মোতালেবের পেছনের দেয়ালটি কাঁচের। কাঁচের দেয়ালের ওপাশে ইন্টারোগেশন সেল। সেলের ভেতর থেকে দেয়ালের এপাশটা দেখা যায় না। এতে কাঁচের দেয়ালের কোনো কৃতিত্ব নেই মোটেই। আসলে ইন্টারোগেশন সেলের ভেতরের এই দেয়ালে একাধিক ক্যামেরা আর মাইক্রোফোন বসানো, যার মাধ্যমে সেলের ভেতরের সব কিছু পাশের রুমের দেয়াল জুড়ে বসানো কাঁচের নিচের টিভি স্ক্রিনে দেখা যায়। মনোয়ারের কথার কোনো জবাব না দিয়ে মোতালেব কাঁচের দেয়ালের দিকে আরেকবার ঘুরে তাকালো।

সেলের ঠিক মাঝখানে হাতল ওয়ালা একটি বিশেষ চেয়ারে লোকটা নিথর বসে আছে। ছাদ থেকে লম্বা রডের সাহায্যে ঝোলানো চার পাখা ওয়ালা একটি ফ্যান তার মাথার উপর কর্কশ ক্যাচ ক্যাচ শব্দে খুব ধীরে ঘুরছে। চেয়ারের হাতল আর পায়ার সাথে লোকটার হাত আর পা বেল্ট দিয়ে বাঁধা। মনোয়ারের হাতের কারুকাজে বেচারা ইতোমধ্যেই বেশ কাহিল হয়ে পড়েছে। তার কাঁচাপাকা ঘন দাড়ি ভর্তি চিবুক নিজের বুকের কাছে বাঁধা বেল্টের সাথে প্রায় লেগে গেছে। মাথা ভর্তি লম্বা চুলের বেশিরভাগই সামনে এসে ঢেকে ফেলেছে মুখটি। সেই ঘামে ভেজা চুল থেকে টপ টপ করে ঘাম গড়িয়ে তার উরুর উপর গিয়ে পড়ছে।

স্ক্রিন থেকে চোখ ফিরিয়ে সামনে টেবিলের উপর খোলা ফাইলের উপর আরেকবার চোখ বুলালো মোতালেব। লোকটার নাম আজহার আজিম। পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত। আলকায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় সংগঠন আলকায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট (আকিস) এর সাবেক সদস্য সে। বাংলাদেশে এসেছিল কর্মী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। তারপর থেকেই তাকে আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ কখনোই স্বীকার করেনি তাকে গ্রেফতারের কথা, অবশ্য কেউ জানতেও চায়নি কখনো। দফায় দফায় তার মুখ খুলানোর চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু লাভ হয়নি। তবু তাকে জিইয়ে রাখা হয়েছে এই ভেবে যে, যদি কখনো কোনো কাজে আসে সে।

‘স্যার, আবার শুরু করি তাহলে?’ সংক্ষিপ্ত বিরতিতে এসে ধরানো সিগারেটটা এস্ট্রেতে পিষে ফের শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে বলল মনোয়ার।‘শিউর,’ সামনে খোলা ফাইল থেকে চোখ না সরিয়েই অস্ফুট স্বরে সম্মতি দিল মোতালেব; এখনও পর্যন্ত রাশেদের ভিডিওতে দেখা টেররিস্টদের কোনো কন্টাক্ট সে বের করতে পারেনি, এই ব্যর্থতা সে নিজেই মেনে নিতে পারছে না, উপরের চাপ তো আছেই।

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *