Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ২৪

স্ত্রীর মতিগতি বোঝার জন্য তিন বছর কি যথেষ্ট সময়? আনমনে ভাবল খালিদ।

তার স্ত্রী ইভা সুন্দরী আর সুন্দরী বলেই হয়ত খানিকটা রগচটা। রগচটা হলেও ইভা সাধারনত তার কথার অবাধ্য হয় না। কিন্তু আজ শপিং মলে ইভা তার কথা শোনেনি। 

শোনার কথাও না অবশ্য।

শপিং মলের লিফটের এক পাশে রেলিং এ ভর দিয়ে দাঁড়ানো তিন যুবক শপিং করতে আসা নারীদের ইভটিজিং করছে, ব্যাপারটা খালিদেরও নজর এড়ায়নি। তাই লিফটের সামনে দিয়ে যাবার সময় সে ইভা আর যুবকদের মাঝে দেয়াল হয়ে থাকবার চেষ্টা করল। কিন্তু  যুবকদের একজন ইভাকে উদ্দেশ্য করে এমন বাজে একটা মন্তব্য করল যে তা শুনে খালিদের নিজেরই কান গরম হয়ে উঠল। কিন্তু দ্রুত রাগ সামলে সে ইভার কুনুই চেপে ধরে বলল, ‘বাদ দাও তো…’

কিন্তু ইভা নিজেকে সামলাতে পারল না। ঝটকা দিয়ে কুনুই ছাড়িয়ে নিয়েই যুবকদের দিকে তেড়ে গিয়ে ‘কী বললি…’ বলে চোখের পলকে সেই যুবকের গালে দিল বসিয়ে এক চড়। 

ঘটনার আকস্মিকতায় চারপাশের দোকানি আর ক্রেতাদের সবাই হা হয়ে তাকিয়ে রইল; অবশ্য ঘটনাটা কী তা বুঝতে কারো বাকি নেই। যুবকগুলো প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করবার আগেই ইভার হাত ধরে ওদের সামনে থেকে সরে এল খালিদ। কিন্তু তারপরও যুবকদের একজন হন্তদন্ত হয়ে ওদের পিছু নিতে চাইল। যাহোক, সামনের দোকানের দুজন কর্মচারি মিলে তাকে নিবৃত করল বটে। তবে পেছন থেকে ভেসে আসা তার অশ্রাব্য খিস্তি আর হম্বিতম্বিতে কান পাতা দায়!

সঙ্গত কারনেই শপিং আজ খুব সংক্ষিপ্ত হল। শপিং মল থেকে বেরিয়ে পার্কিং এ পৌছেই ইভা ফুঁসে উঠল, ‘তুমি কেন কিছু বললে না ওদের…’

‘তুমি তো শাস্তি দিয়েছই…’ কারের পেছনের সিটে শপিং ব্যাগগুলো রাখতে রাখতে ইভাকে শান্ত করার চেষ্টা করে খালিদ।

‘না, আগে বল, তুমি থাকতে আমার কেন করতে হল? কেরানিগিরির চাকরি করতে করতে তোমার কলিজাটাও কেরানিদের মতই ছোট হয়ে গেছে। নিজের বউকেও প্রটেক্ট করতে পারো না…’

‘আচ্ছা, বাদ দাও না…’

‘না, কেন বাদ দেব? আর কী বাদ দেব…’ 

‘ইভা, প্লিজ, এখানে না…’ কারের দরজা খুলে চাপা গলায় অনুরোধ করে খালিদ, ‘অযথাই সিন ক্রিয়েট হচ্ছে।’ প্রায় ঠেলে ইভাকে কারের সামনের সিটে বসিয়ে দিয়ে নিজের সিটে বসে সিট বেল্ট চাপিয়ে দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দেয় সে। জানালার কাঁচ নামিয়ে পার্কিং লটের সিকিউরিটি গার্ডকে বখশিস দেবার সময়ই খালিদের অবচেতন মন তাকে সতর্ক বার্তা দিল! বিপদের গন্ধ পেল সে। গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরের হাইওয়েতে উঠে আসতেই নিশ্চিত হল যে ওদের ফলো করা হচ্ছে।

ইভার গজগজানি উপেক্ষা করে সতর্ক কন্ঠে বলে উঠল খালিদ, ‘সিট বেল্ট পরে নাও ইভা। ঐ ছেলে গুলো আমাদের ফলো করছে, সাদা রঙের একটা এলিয়ন।’

‘কি!’ বলে সভয়ে পেছনে ফিরে দেখতে উদ্যত হতেই ইভার হাত চেপে ধরে তাকে সংবরন করল খালিদ, ‘ডোন্ট লুক ব্যাক, সিট বেল্ট পড়ো আগে। আমি দেখছি ব্যাপারটা।’

সিট বেল্ট পরতে পরতে ফের ফুঁসে উঠল ইভা, ‘তুমি করবে ঘোড়ার আণ্ডাটা। এখুনি গাড়ি থামাও আর লোকজন জড়ো কর…’

‘এই হাইওয়েতে কাকে জড়ো করবে?’ রিয়ার ভিউ মিরর থেকে চোখ না সরিয়ে বলল খালিদ, ‘তাছাড়া ওদের সাথে আরো কেউ এসে জড়ো হলে আমরা আরো বিপদে পরব। তারচে এগিয়ে গিয়ে দেখি এভোয়েড করা যায় কিনা, আর না হয় সেইফ দেখে কোথাও থামতে হবে…’  

‘ইয়াল্লাহ, কি বল এসব,’ ইভার চেহারায় এবার ভয় ফুটে উঠে। 

‘বললাম তো চুপ করে বসে থাকো, আমি দেখছি।’

তবু খালিদের কথায় ভরসা পায় না ইভা। হঠাৎ তার নিজের উপরই রাগ হল। এখন কি হবে? খালিদ বেচারা ছাপোষা মানুষ, একটা এনজিও তে সিনিয়র একাউন্টেন্ট হিসেবে কাজ করে; কারো সাতে পাচে নেই। এখন এরা নিশ্চিত রাস্তায় ঝামেলা করবে; হয়ত খালিদকে মারধরও করবে। যদি গুলি টুলি করে বসে, একথা ভাবতেই ইভা শিউরে উঠে ইভা।

এমন সময় গাড়ির ড্যাশ বোর্ডের উপর রাখা খালিদের মোবাইল ফোনের স্ক্রিন হঠাৎ আলোকিত হয়ে উঠে, সেই সাথে বেজে উঠে রিং টোন। স্ক্রিনে চোখ পরতেই প্রায় একই সাথে কলার এর নামটা চোখে পরে ইভা আর খালিদের। কলার আইডির জায়গায় লেখা ‘মুক্তি এনজিও।’ এই মুহুর্তে অফিসের কল আসায় ইভার চেহারা বিরক্তিতে কালো দেখালেও গাড়ি চালাতে চালাতেই কল রিসিভ করে লাউড স্পিকারে দিয়ে বলল, ‘খালিদ বলছি।’

‘ভাই, আপনাকে জরুরী হেড অফিসে আসতে বলেছেন বস।’

‘বুঝেছি। তার আগে একটা কাজ কর। মোবাইলের জিপিএস অন করছি, আমার লোকেশন ফলো করে নিয়ারেস্ট পয়েন্ট থেকে একটা ইমার্জেন্সি টিম পাঠাও।’

‘কোনো ঝামেলা, ভাই?’

‘আমার মিসেস আছে সাথে।’

‘বুঝেছি, ভাই।’

কথা শেষ করে হঠাৎ কারের গতি বাড়িয়ে দিল খালিদ। একেবারে মহাখালী পর্যন্ত রাস্তা একই রকম চওড়া। তাই চেষ্টা করছে গতি দিয়ে পেছনের সাদা এলিয়নটাকে পেছনে ফেলে পিছু ছাড়িয়ে নিতে। ইভার ফর্সা মুখ ভয়ে আরো ফ্যাকাশে দেখায়। রাত এখন আটটার বেশি বাজে। তার উপর কয়েক পশলা বৃষ্টির কারনে রাস্তায় গাড়িও বেশ কম। তাছাড়া পেছনের সাদা এলিয়নটা লেটেস্ট মডেলের হওয়াতে তার কারের চেয়ে গতিও বেশি। তাই খালিদের এই চেস্টায় কোনো লাভই হল না। বরং এলিয়নটা এই মুহুর্তে ঠিক তার কারের পেছনে আঠার মত সেটে আছে।  

বিমানবন্দর ক্রস করার পর হঠাৎই তার সামনের গাড়ি দুটোর আচরন খালিদকে অস্বস্তিতে ফেলে দিল। গাড়ি দুটো পাশাপাশি দুই লেন জুড়ে ওর গাড়ির পথ আগলে চলছে। সে না পারছে গতি বাড়াতে, আর না পারছে ওভারটেক করতে। মুহুর্তেই খালিদ বুঝল যে ওর গাড়িটা পেছনের কার আর সামনের দুই কারের ফাঁদে আটকা পরে গেছে সে। সামনের দুটো গাড়িও একই দলের। গতি না কমিয়ে দ্রুত ভাবতে চেষ্টা করল খালিদ, কিভাবে এই ফাদ থেকে বের হওয়া যায়। কিন্তু রিয়ার ভিউ মিররে চোখ আটকে গেল ওর। পেছনের এলিয়নের দু পাশ দিয়ে দুটো দুটো করে চারটা বাইক দ্রুত এগিয়ে আসছে। প্রত্যেকটি বাইকে দুজন করে বসা। মনে মনে প্রমাদ গুনল খালিদ।

সবকিছু দেখে ভীত ইভা কাতর কন্ঠে বলে উঠে, ‘এখন কী হবে খালিদ…’ 

‘এভ্রি থিং উইল বি ফাইন, রিলাক্স।’ কথাটা শুনেই ঝট করে খালিদের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠে ইভা; এই খালিদকে কেমন যেন অচেনা লাগে তার কাছে!

চোখের পলকে দুটো বাইক ওদের গাড়ির দু পাশে চলে এল। বাইকের পেছনে বসা ছেলে দুটো চেইন জাতীয় কিছু দিয়ে গাড়ির সামনের দুই জানালায় প্রায় এক যোগে আঘাত হানল। হঠাৎ সজোরে ব্রেক কষল খালিদ। ফলে বাইক দুটো ছিটকে সামনে চলে গেল বলে চেইনের ফস্কে যাওয়া আঘাতে গাড়ির তেমন কোনো ক্ষতি হল না বটে কিন্তু পেছনের বাইক দুটো ঝট করে সামনে এসে ওদের দুপাশে চলে এল। সামনের বাইক দুটো ততক্ষনে গতি কমাতে শুরু করেছে। পেছনের এলিয়ন আচমকা ব্রেক কষতে গিয়ে স্কিড করে সামনে এগিয়ে এসে যখন পেছন থেকে খালিদের গাড়িকে প্রায় আঘাত করবে ঠিক তখনি খালিদ ফের গিয়ার বদলে দ্বিগুন গতিতে গাড়ি সামনে বাড়াল। সেই সাথে চেচিয়ে উঠে বলে উঠল, ‘ইভা, মাথা নিচু করে শক্ত হয়ে বস!’

কয়েক মুহুর্তের ভেতর চারটা বাইক ফের খালিদের গাড়িটাকে ঘিরে ধরল! কিন্তু গাড়ির গতি ঘণ্টায় চল্লিশ কিলোমিটারের কাছাকাছি উঠতেই খালিদ আচমকা হ্যান্ডব্রেক কষে স্টিয়ারিং হুইল দ্রুত বামে ঘুরাল। মাথা নিচু করে থাকা ইভা কিছু দেখতে না পেলেও অনুভব করল হঠাৎ করেই গাড়িটি রাস্তার উপর ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল। অসংখ্য বার এই ফরোয়ার্ড ১৮০ ডিগ্রি ম্যানুভারটি অনুশীলনের প্রেক্ষিতে না তাকিয়েও খালিদ জানে যে গাড়ির ডান পাশের বাইক দুটো ইতোমধ্যেই তার কারের ডান পাশের পেছনের অংশের ধাক্কায় ছিটকে রোড ডিভাইডারের উপর আছড়ে পরেছে। বাম পাশের বাইক দুটো অবাক হয়ে নিরাপদ দুরত্বে সরে গিয়ে ওর গাড়ির দিকে ঘুরে দাড়িয়ে এগুবে কিনা সেই দ্বিধায় আছে। কারন খালিদের গাড়িটা এই মুহুর্তে সম্পুর্ন উলটা ঘুরে সাদা এলিয়নের মুখোমুখি এগুতে শুরু করেছে। 

খালিদের গাড়িটিকে হঠাৎ মুখোমুখি এগিয়ে আসতে দেখে সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগতে থাকা সাদা এলিয়নের ড্রাইভার ডানের লেনেই সজোরে ব্রেক কষল। খালিদের গাড়িটি হঠাৎ ডানে চেপে যেতেই ওরা ভাবল সে হয়ত ডান দিয়ে কেটে বেরিয়ে পেছনে চলে যাবে। কিন্তু ওদের অবাক করে দিয়ে খালিদ হঠাৎ সজোরে সাদা এলিয়নের পেট বরাবর নিজের গাড়ির সামনের বাম কোনা দিয়ে আঘাত করে ঠেলে গাড়িটিকে রাস্তার মাঝের রোড ডিভাইডারের সাথে লেপ্টে দিল। এলিয়নের আরোহিরা এখন না পারবে ডিভাইডারের ওদিকের দরজা খুলতে, না পারছে এপাশের সামনের দরজা খুলতে। 

মাথা নিচু করে থাকা ইভার চুলের মুঠি ধরে মুখটা সোজা করে দৃঢ় কন্ঠে খালিদ বলল, ‘আমি না আসা পর্যন্ত গাড়ি থেকে বেরুবে না। লক দ্য ডোরস!’ কথা শেষেই ইভাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ক্ষিপ্র গতিতে গাড়ি থেকে নেমে গেল সে। দ্রুত গাড়ির দরজা লক করে দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখল, খালিদ প্রথমে এলিয়নের পেছনের দরজা খুলে ভেতরে বসা ছেলেটাকে কলারে চেপে ধরে বের করে আনল। এ সেই ছেলে যাকে ইভা চড় মেরেছিল।

পেছন দিক থেকে আসা গাড়ি গুলো নিরাপদ দুরত্বে হেড লাইট জ্বেলে বোঝার চেষ্টা করছে সামনে কী চলছে। তারও পেছনে ছোট্ট একটা জ্যাম বেধে গেছে। কিন্তু খালিদের সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। সে দু হাতে খপ করে চুলে ধরে ছেলেটার মাথাটা সামনের দিকে নামিয়ে এনে একই সাথে নিজের ডান হাটু উপরে চালালো। প্রথমবারেই হাটুর আঘাতে নাকের হার গুড়ো হয়ে গেছে ছেলেটার, পরের দুই আঘাত সে আর সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে কাটা কলা গাছের মত রাস্তায় আছড়ে পরল। দুটো বাইক একই সময়ে খালিদের পাশে এসে দাঁড়ালো। মুহুর্তেই খালিদের শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। কাছের বাইকটার পেছনের আরোহী সামলে উঠবার আগেই নিজেকে শুন্যে আবিস্কার করল। গলার কাছের হেলমেট আর তার কোমরের বেল্ট ধরে খালিদ তাকে বাইকের উপর থেকে তুলে মাথার উপর দিয়ে এনে রাস্তায় আছড়ে ফেলল। কিছু বুঝে উঠবার আগেই কোমরের প্রচন্ড ব্যথায় সে সংজ্ঞা হারাবার আগে সে টের পেল যে তার হাতের লোহার চেইনটা ইতোমধ্যে হাতছাড়া হয়ে খালিদের হাতে। 

হাতের চেইন প্রথম বাইকের চালকের পিঠে একবার চালিয়ে দ্বিতীয় বাইকের দিকে ফিরতেই দেখতে পেল যে বাইকটি দ্রুত হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খালিদ জানে ওরা দ্রুতই ফিরবে, তাই আপাতত ওদের দিকে নজর না দিয়ে প্রথম বাইকের চালকের দিকে মনোযোগ দিল। এইমাত্র লোহার চেইনের সজোর আঘাত সামলে উঠে দম ফিরে পেতে ব্যস্ত তরুন বাইকারের হেলমেটের কাঁচের ওপাশে চোখ দুটোতে ভয় এবং বিষ্ময় যুগপৎ খেলা করছে। খপ করে তার টুটি চেপে ধরে তাকে বাইক থেকে নামিয়ে আনল খালিদ। তারপর চেইন সহই পেট বরাবর বেমাক্কা ঘুসি চালাল। ককিয়ে উঠে শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে নিজের গলা ছাড়িয়ে নিয়ে ছেলেটি দ্রুত রাস্তার ফুটপাতের দিকে দৌড়ালো।

হঠাৎ বিং করে কানের পাশ দিয়ে বুলেট যাবার শব্দে সচকিত হল খালিদ। সামনে যে গাড়ি দুটো দিয়ে ওকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল সেই দুটো গাড়িই রাস্তার বাম পাশে দেখতে পেল সে। পালিয়ে যাওয়া বাইকটাও পাশেই। এদের গুলি তার গায়ে লাগবে সে ভয় খালিদ পাচ্ছেনা। দশ গজ দূর থেকে চলমান টার্গেটে গুলি লাগানোর ব্যাপারে এসব মাদকাসক্ত মাস্তানদের কোন দক্ষতাই থাকে না। তবে এলোপাথারি গুলি ইভার গায়ে লাগতে পারে ভেবে ভাবনায় পরে গেল সে। দ্রুত গাড়ির পাশ থেকে সরে যেতে হবে ভাবতে গিয়েই হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলে রাস্তা পেরিয়ে সোজা গাড়ি দুটোর দিকেই দৌড়ে এগিয়ে গেল সে। আরেকটা গুলির শব্দ হল কিন্তু কোন দিকে গেল বোঝা গেল না। ঠিক তখনি তিনটা নতুন স্পোর্টস বাইক ঘ্যাচ করে ব্রেক করে গাড়ি দুটোর পাশে এসে দাঁড়ালো। পিস্তল হাতে দাঁড়ানো লোকটাকে এবার স্পষ্ট দেখতে পেল খালিদ। তারপর পরই দেখতে পেল সদ্য আসা তিন বাইক আরোহীদের একজন ক্লোজ রেঞ্জ থেকে সাইলেন্সার লাগানো লম্বা নলের পিস্তল দিয়ে পিস্তল ধারীর কপালে একটাই মাত্র গুলি করল। বাকি দুজনও পিস্তল বের করতেই পালিয়ে যাওয়া বাইকটা সবার আগে ছুটল, আর তার পেছন পেছন গাড়ি দুটো। 

‘আপনি ঠিক আছেন তো, ভাই?’ স্পোর্টস বাইকের এক আরোহী হেলমেটের কাঁচ তুলে জানতে চাইল।

হাতের চেইনটি সামনে ফেলে দিয়ে নিস্পৃহ কন্ঠে খালিদ বলল, ‘আমি ঠিক আছি। সাইট কুইকলি কিয়ার করে ফেলো। ম্যানেজ দ্য মিডিয়া। গাড়িতে আমার মিসেস আছে, চললাম, ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে অফিসে আসছি।’

‘জ্বি, ভাই।’

***

ফিরতি পথে ধাতস্থ হতে ইভার অনেকটা সময় লাগল। ধাতস্ত হবার পরও কি কথা বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না। কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে, বিশেষ করে খালিদের ক্রিয়াকলাপেই বরং সে বেশি ভড়কে গেছে।  ইভার কাছে খালিদকে এখন ভীষণ রহস্যময় লাগছে; খুব বেশি রহস্যময় কারোর সাথে সহজে কথা বলা সহজ নয়!

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

2 thoughts on “মিশন তিম্বক্তু (চব্বিশ)”

  1. Pingback: মিশন তিম্বক্তু (তেইশ) – Delwar Hossain Khan

  2. Feels like I am re introducing myself with a new Kaji Anwar Hossain who is more matured than the original one.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *