Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ১৪

ফ্রেঞ্চ পিএক্স শপ, গাও সুপার ক্যাম্প, মালি

ফ্রেঞ্চ আর্মির ক্যাপ্টেন ক্যাথরিনকে দেখলেই ল্যান্স কর্পোরাল আতাউরের মনেহয় জান্নাতের হুরপরীরা নিশ্চয় দেখতে এমনই হবে! ফ্রেঞ্চ কন্টিঞ্জেন্টের সৈন্যরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী না। তাই কাছাকাছি কম্পাউন্ডে থাকলেও ওদের সাথে মেলামেশা তেমন নেই আর দেখাও হয় এয়ারপোর্টে নাহয় পেট্রলিং এর সময় রাস্তাঘাটে কিংবা ফ্রেঞ্চ পিএক্স শপে কেনাকাটা করতে গেলে। তবে আজ কিছুক্ষন আগে ক্যাথরিনের কল পেয়েই আতাউর ফ্রেঞ্চ পিএক্স শপের ক্যাফেতে হাজির হয়েছে।

মেজর সাইরাসের সেই উদ্ধার অভিযানের পর থেকে ক্যাপ্টেন ক্যাথরিন ওরফে ক্যাথি ব্যানব্যাট কন্টিঞ্জেন্টে বেশ পরিচিত আর আলোচিত মুখ। যদিও মেজর সাইরাস, দোভাষী ক্যাপ্টেন রাশেদ আর আতাউর ছাড়া ব্যানব্যাটের আর কারো সাথেই ক্যাথির তেমন পরিচয় নেই। উদ্ধার অভিযানের সুবাদে আতাউরকে ক্যাথি খুব ভালো করে চেনে আর তার সাথে মিশতেও চায়। কিন্তু আতাউর তাকে এড়িয়ে চলার যথাসাধ্য চেষ্টা করে। এর পেছনে একটা কারন হল ক্যাথির ফ্রেঞ্চ ধাঁচের ইংরেজি যার মাথামুণ্ডু কিস্যু বুঝতে পারেনা আতাউর। আরেকটা কারন হল, তার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাইরাসের প্রতি ক্যাথির ভাললাগা। এই ভালোলাগাটা দো তরফা হলে দুতিয়ালি করতে আতাউরের কোনো সমস্যা ছিলনা। কিন্তু সমস্যা হল সাইরাস অনিচ্ছুক হওয়ায় ক্যাথি আতাউরের মাধ্যমে তার একতরফা ভালোলাগার যে বার্তা বা উপহারই পাঠাবার চেষ্টা করে তা সাইরাসের কাছে পৌছে দিতে গিয়ে প্রতিবারই তাকে কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়। 

বিবাহিত মেজর সাইরাসের আপত্তিটা কোথায় তা আতাউর বেশ ভাল করেই বোঝে। নিজের স্ত্রী আর কন্যাকে সে কতটা ভালবাসে তা সাইরাসের সবচেয়ে কাছের সহযোদ্ধা হিসেবে আতাউরের চেয়ে ভাল আর কেউ জানে না। তাছাড়া কোম্পানি কমান্ডার হিসেবেও তার সুযোগ নেই নিজের সৈন্যদের সামনে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক গড়ার কোনো নজির স্থাপনের। তাই সাইরাসের অনুরোধে আতাউর আর ক্যাপ্টেন রাশেদ বেশ কয়েকবার ক্যাথিকে সমস্যাটা বুঝিয়ে বলেছে। তবে তাতে লাভ যে খুব একটা হয়েছে তেমন না। অফিসারদের আনুষ্ঠানিক পার্টি কিংবা প্রোগ্রামের বাইরে সাইরাস কখনই ক্যাথির সাথে দেখা করেনি বটে। কিন্তু এয়ারপোর্টে, পেট্রলিং এ কিংবা পিএক্স শপে কেনাকাটার সময় বেশ কয়েকবারই ওদের দেখা হয়েছে। এর ভেতর কয়েকবার নেহায়েত কাকতালীয়ভাবেই দেখা হয়েছে বটে তবে বাকি সময় গুলোতে আতাউরের কাছ থেকে আগাম তথ্য পেয়েছে ক্যাথি। 

ভালোলাগার উচ্ছাস গোপন করা কঠিন। যতবারই ওদের দেখা হয়েছে ক্যাথির সেই উচ্ছাস চাপা থাকেনি মোটেই। সাদা চামড়াদের ভেতর এমন উচ্ছাস-সম্পর্ক বেশ স্বাভাবিক হলেও মেজর সাইরাস বরাবরই সংযম দেখিয়েছে। সৌজন্য বিনিময়ের পর বাড়তি কথোপকথন সে সযত্নে সংক্ষিপ্ত করেছে আর প্রতিবারই অমায়িক হেসে বিদায় নিয়েছে। ক্যাথির জন্য আতাউরের মাঝেমধ্যে মায়াই হয়। 

পকেট থেকে মোবাইল বের করে সময় দেখে আতাউর। ক্যাথির আসবার সময় হয়ে এসেছে প্রায়। সেই উদ্ধার অভিযানটার কথা ফের মনে পরে যায় তার। সাইরাসের প্রতি অনুরক্ত হবার যথেষ্ট কারন আছে বটে ক্যাথির; ভাবল সে!

গাও থেকে উত্তরে আলজেরিয়া বর্ডারের কাছাকাছি তেসালিতে একটি লজিস্টিক কনভয় পৌছে দিয়ে ফিরছিল তারা। তাদের কোম্পানির দ্বিতীয় এল আর পি ছিল সেটা। ফিরতি পথে আঘলুকের কাছাকাছি পৌছাতেই দোভাষী ক্যাপ্টেন রাশেদ ওয়াকিটকিতে মেজর সাইরাসকে কিছু একটা বলতেই রাস্তার পাশে তাদের এপিসিগুলো থামাবার নির্দেশ এলো।

এপিসিগুলো সব থামতেই সামনের এপিসি থেকে নেমে ক্যাপ্টেন রাশেদ দৌড়ে মেজর সাইরাসের এপিসির কাছে চলে এল। ততক্ষনে হ্যাচ খুলে সাইরাস নিজে নেমে এসেছে। ওদের কথোপকথন শুনে আতাউর বুঝল যে, আশেপাশেই কোনো এক গ্রামে ফ্রেঞ্চ আর্মির একটি টিম মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনার সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। ইউএন এর ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিকটবর্তী যেকোনো পেট্রলকে অনুরোধ করা হয়েছে সম্ভব হলে ফ্রেঞ্চ টিমটিকে সহায়তা করতে। 

মেজর সাইরাস স্যাটফোনের মাধ্যমে দ্রুত ব্যানব্যাট হেডকোয়ার্টারের অনুমতি নিয়ে মাটিতে ম্যাপ বিছিয়ে চার এপিসির ড্রাইভার আর কমান্ডারদের ডাকলেন আর গন্তব্য ও করনীয় সম্পর্কে ব্রিফ করলেন। গন্তব্য বরাবর মাইল খানেক যেতেই ফ্রেঞ্চ এপিসি দুটোর দেখা মিলল; সামনেই লালচে মাটির দেয়ালের বাড়িঘর সমেত ছোট একটা গ্রাম। 

ফ্রেঞ্চ টিমের ক্যাপ্টেন জানাল যে, গ্রামের একপাশে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন চলাকালে হঠাৎ রোগী সেজে আসা টেররিস্টরা ওদের মেডিক্যাল টিমটাকে ঘিরে ফেলে গুলাগুলি শুরু করে আর ওদের ডাক্তার এবং একজন মেডিককে ধরে গ্রামের ভেতর নিয়ে চলে যায়। ইতোমধ্যে একবার ওদের এপিসির উপর রকেট লঞ্চার দেগেছে টেররিস্টরা। তাই রেঞ্জের বাইরে এসে অপেক্ষা করছে ওরা। ডাক্তার আর মেডিকের নিরাপত্তার কথা ভেবে ফ্রেঞ্চ টিম ফায়ার ব্যাক করতে পারছেনা এবং নেগোসিয়েশনের চেষ্টা করছে।

‘অস্ত্রধারী কতজন হবে?’ মেজর সাইরাস জানতে চাইলেন ফ্রেঞ্চ টিম ক্যাপ্টেনের কাছে।
‘পনের বিশ জন হবে।’
‘তোমার হেডকোয়ার্টার কি বলে?’
‘কমান্ডোদের নিয়ে ব্যাক আপ টিম রওনা হয়েছে।’
‘পারবে সন্ধ্যার আগে পৌছুতে?’
‘সেটাই ভাবছি,’ বলে নিজের উরুর উপর রাখা ল্যাপটপের ডালা খুলে একটা স্যাটেলাইট ইমেজের প্রতি সাইরাসের দৃষ্টি আকর্ষন করল। ‘এটা হল এই গ্রাম, আমরা এখন যেখানে আছি। এই হল গাওতে আমাদের বেইজ ক্যাম্প।’
‘কতক্ষন আগে ফ্লাই করেছে?’
‘হেলিকপ্টার যদিও নাইট ফ্লাইং ক্যাপাবল কিন্তু সন্ধ্যের আগে এখানে পৌছুতে পারবে না। । তবে আসল সমস্যা এখানে,’ টিম ক্যাপ্টেন ল্যাপটপ স্ক্রিনে গ্রামের আরো পশ্চিমে বিপ বিপ করে এগিয়ে আসতে থাকা  দুটো বিন্দুর উপর টোকা দিয়ে বলল, ‘কমপক্ষে দুটো পিক আপে করে আরো টেররিস্টরা গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। হয়ত ঘন্টাখানেকের ভেতর সন্ধ্যা নামার আগে আগেই ওরা পৌছে যাবে। আর ওরা এসে এদের সাথে যোগ দিলে রেস্কিউ করা আরো টাফ হয়ে যাবে। তার উপর রাতে হোস্টেজ কোন দিকে সরিয়ে নেবে সেই হদিস পাওয়াও হবে আরেক মুস্কিল!’
‘হুম, কি করবে বলে ভাবছ?’
‘কী আর করব? দেখি ব্যাক আপ টিম আসুক।’

এরই মধ্যে ক্যাপ্টেন রাশেদ হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে এসে সাইরাসকে বলল, ‘স্যার, এই দেখেন আমাদের ড্রোনের ফুটেজ।’

সাইরাস খুটিয়ে খুটিয়ে ফুটেজ দেখে হঠাৎ ঝুপ করে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে নিজের সামনের মাটিতে একটা কাঠি দিয়ে গ্রামটার একটি ম্যাপ আঁকল। তারপর বাংলায় বলল, ‘এই গ্রামের পূর্বদিকে আমরা আছি এখন। এই পশ্চিম দিক থেকে ওদের দুটো পিক আপে করে আরো এনিমি আসছে। গ্রামের সামনের দিকটায় দশ বারোজন অস্ত্রধারী পজিশন নিয়ে আছে। গ্রামের পশ্চিম দিকে, মানে পেছনের দিকটায় এই বাড়িটার সামনে দুজন গার্ড দেখা যাচ্ছে। তারমানে এই বাড়ির ভেতরই বন্দি দুইজনকে রাখা আছে। সামনে থেকে ওদেরকে এনগেজ করে রাখতে পারলে পেছন থেকে ওদের রেস্কিউ করা সম্ভব।’

‘ইয়েস, স্যার,’ উপস্থিত ব্যানব্যাট সৈন্যরা প্রায় সমস্বরে বলে উঠল।

চমকে উঠে ফ্রেঞ্চ টিম ক্যাপ্টেন উৎসুক কন্ঠে কি হয়েছে জানতে চাইলে সাইরাস ফ্রেঞ্চ ভাষায় তার পরিকল্পনা আরেকবার তাকে বুঝিয়ে বলল। কিন্তু ফ্রেঞ্চ টিম ক্যাপ্টেন চোখ ভরা অবিশ্বাস নিয়ে বলল, ‘মেজর, আমি দেখতে পাচ্ছি তুমি একজন কমান্ডো অফিসার। হয়ত তোমার জন্য ব্যাপারটা সহজই। কিন্তু এতে আমাদের বন্দী সৈন্য দুজনের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া আমি আমার হেডকোয়ার্টারের আদেশের বাইরে যেতে পারব না। তাই তোমাকে এই অপারেশনের অনুমতিও দিতে পারছি না।’

‘আমি তোমার অনুমতি চাইছিও না, ক্যাপ্টেন,’ সাইরাস ঠান্ডা গলায় বলল, ‘তুমি যেখানে আছ, সেখানেই থাকো। তোমার সাথে আমার দুটো এপিসিও থাকছে। বাকি দুটো এপিসি নিয়ে আমি ট্র্যাভার্স করে গ্রামের পশ্চিমে চলে যাচ্ছি। দুটো পিকাপে করে ওদের যে রি ইনফোর্সমেন্ট আসছে তা এই দুই এপিসি মিলে কাট অফ করে দেবে। আর আমি গ্রামে ঢুকবার সময় প্রথমে সামনে থেকে আমার দুই এপিসি স্মোক গ্রেনেড লঞ্চ করে ধোয়ার সৃষ্টি করবে। তারপর ফায়ার করে টেররিস্টদের সামনের দিকে এনগেজ রাখবে। এই ফাকে আমরা হোস্টেজ রেস্কিউ করে নিয়ে আসব। বোঝার চেষ্টা কর। একবার অন্ধকার নেমে এলে এদের আর রেস্কিউ করা সম্ভব হবেনা। আর পরে আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে কিন্তু আমি সোজা বলে দেব যে পরিস্কার সুযোগ থাকবার পরও তুমি তা নাও নি। এখন তোমার যা ইচ্ছে।’

ফ্রেঞ্চ টিম ক্যাপ্টেনের জবাবের জন্য অপেক্ষা না করেই মেজর সাইরাস তার এপিসি স্টার্ট দেবার নির্দেশ দিলেন। পেছন থেকে ফ্রেঞ্চ ক্যাপ্টেন দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘আমার কাছে ভাল নাইট ভিশন গগলস আছে। খুব হাল্কা। স্মোকের ভেতর তোমার দেখতে সুবিধা হবে।’
থমকে দাঁড়িয়ে সাইরাস বলল, ‘ধন্যবাদ। দুটো দিও তাহলে।’ 

গ্রামের দৃষ্টিসীমার বেশ বাইরে এপিসি থামিয়ে সাইরাস আর আতাউর নেমে এল। তারপর বুলেটপ্রুফ ভেস্ট আর হেলমেট খুলে রেখে শুধু অস্ত্র হাতে প্রায় তিনশ মিটার ক্রল করে এগিয়ে গেল। পেছনে পশ্চিমে ঢলে পরা সুর্যের প্রখরতার কারনে কারো চোখে ধরা না পরেই নিরাপদে গ্রামের উপকন্ঠে পৌছে গেল তারা। এরপর ওয়াকিটকিতে সাইরাসের সংকেত পাওয়া মাত্র এপিসিগুলো দ্রুত এগিয়ে এসে স্মোক গ্রেনেড লঞ্চ করতেই গ্রামের সামনের দিকে অবস্থান নেয়া সন্ত্রাসীরা গুলি শুরু করল। ফায়ার ব্যাক করতে করতে ব্যানব্যাটের এপিসি গুলো নিরাপদ দুরত্বে পিছিয়ে গিয়ে গুলাগুলি অব্যহত রাখল। 

মুহুর্তে ছোট্ট গ্রামটায় যেন নরক ভেঙ্গে পড়েছে। স্মোক গ্রেনেডের সাদা ধোয়ায় চারপাশ ঢাকা পরে গেছে। সেই সাথে বিরতিহীন গুলাগুলির শব্দে কান পাতা দায়। সাইরাসের ইশারা পেয়ে আতাউর গড়ান দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর এসএমজি বাগিয়ে দুজন মিলে সামনের দিকে ছুটল তীর বেগে। কোনো বাধা ছাড়াই তারা সেই বাড়িটার সামনে পৌছে গেল। গার্ড দুজনই সামনের দিকে কী হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টায় ব্যস্ত। সাইরাস কোনো ঝুঁকি নিল না। দ্রুত সামনের দুজনের দিকে এক পশলা গুলি ছুড়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ফেলল। ভেতরে ঢুকতেই প্রথম কক্ষে কিছু নারী আর শিশুদের জড়সড় হয়ে এক কোনায় বসে থাকতে দেখল। ঠিক পরের কক্ষেই ফ্রেঞ্চ ইউনিফর্ম পরা দুজনকে মেঝেতে হাতপা চোখ বাধা অবস্থায় পাওয়া গেল। আতাউর দরজা কাভার করে দাড়াতেই সাইরাস ঝটপট তার কমান্ডো নাইফ চালিয়ে দুজনকেই বন্ধন মুক্ত করে দিল। ছাড়া পেয়েই একজন ভয়ে সাইরাসের কাঁধ জড়িয়ে ধরল আরেকজন ঘরের কোনার দিকে পিছিয়ে গেল। 

সাইরাস ফ্রেঞ্চ ভাষায় দুজনকেই দ্রুত তাকে অনুসরন করতে বলল। তারপর দুজনকেই জাপটে ধরে বাড়ির বাইরে নিয়ে চলল। ওরা বাড়ির দরজার বাইরে পা ফেলতেই নিজেদের এপিসিটা দাঁড়ানো দেখতে পেল। এপিসির ড্রাইভার ধোয়া আর গুলাগুলির শব্দের সুযোগে বুদ্ধি করে এগিয়ে এসেছে ওদের দ্রুত তুলে নেবার জন্য। কিন্তু এপিসি ইঞ্জিনের গর্জন ততক্ষণে কিছু টেররিস্টদের কানে পৌছে গেছে। মুহুর্তেই তারা ধরে ফেলল যে ওদের বন্দি হাতছারা হতে চলেছে। তাই এপিসির দিকে শুরু হল গুলির বৃষ্টি। কিন্তু তার আগেই হ্যাচ খুলে সবাইকে নিয়ে সাইরাস এপিসির ভেতর উঠে পরেছে। টেররিস্টদের ছোড়া বুলেট এপিসির পুরু চামড়ার কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি। 

সদ্য উদ্ধারকৃত ফ্রেঞ্চ সৈন্য দুজনের একজন তখনও মেজর সাইরাসের বাহু আঁকড়ে ধরে আছে। বিরক্ত হয়ে হাত ঝাপ্টা দিয়ে সে বলল, ‘আতাউর, একে সরাও তো,’ তারপর এপিসি ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে চেচিয়ে উঠল, ‘কুইকলি পিছু হটে গ্রাম থেকে দূরে সরে যাও। রকেট লঞ্চার আছে ওদের!’
ঠিক পনের মিনিট পর ওদের চারটা এপিসি আর ফ্রেঞ্চ দুটো এপিসি নিরাপদে আঘুলহকের উদ্দেশ্যে ছুটে চলল।

ভীত সেই ফ্রেঞ্চ সৈন্যকে সাইরাসের গা থেকে ছাড়িয়ে নেবার সময় আতাউর আবিস্কার করে যে সৈন্যটি একজন নারী, যার নাম ক্যাপ্টেন ক্যাথেরিন; ফ্রেঞ্চ আর্মির ডাক্তার! প্রাণ বাচানোর জন্য সে অসংখ্যবার সাইরাসের কাছে নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সমস্যা হল, এই কৃতজ্ঞতা ভালবাসায় রূপ নিতে খুব বেশি দেরী হয়নি।

‘হ্যালো, আতাউর।’ ক্যাথির ডাকে সংবিত ফিরে পায় আতাউর। ত্রস্ত উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করে সে। কিন্তু ক্যাথি খপ করে তার কাধে হাত রেখে তাকে বসিয়ে দেয়। তারপর দ্রুত মোবাইলে কিছু লিখে তার সামনে মোবাইলটা ধরে। ফ্রেঞ্চ থেকে বাংলায় অনুবাদ করে মোবাইল স্ক্রিনে লেখা, ‘রোগী দেখছিলাম। তাই একটু দেরী হয়ে গেল। দুঃখিত।’

আতাউর হেসে মাথা ঝাকায়। তারপর ক্যাথির উজ্জ্বল নীল চোখে একরাশ গভীর বিষন্নতা দেখে চমকে উঠে।

‘সাইরাস, ওকে?’
‘ইয়েস, স্যার। এখন ঢাকায়।’
‘ধন্যবাদ,’ বলে নিজের মোবাইলে আবার টাইপ করা শুরু করে। তারপর অনুবাদ শেষে স্ক্রিনটা আতাউরের সামনে রাখল, ‘সাইরাসকে আমার নাম্বার দিও আর বলো আমাদের দ্রুত কথা বলা দরকার। ক্যাপ্টেন রাশেদের ব্যাপারে। খুবই জরুরী।’ 
‘ইয়েস, স্যার,’ বলে ফের মাথা ঝাঁকায় আতাউর। 
‘ভিডিও… দেখেছ?’ জানতে চায় ক্যাথি।
‘ভিডিও… না, স্যার,’ অবাক হয়ে বলে আতাউর।

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

1 thought on “মিশন তিম্বক্তু (চৌদ্দ)”

  1. Pingback: মিশন তিম্বক্তু (তের) – Delwar Hossain Khan

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *