Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ৬

অজ্ঞাত স্থান, মালি

রাশেদ নিজেকে ফিরে পাবার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অদ্ভুত একটা ঘোরের ভেতর পাক খাচ্ছে সে; এই মুহুর্তে কোথায় আছে, বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে কিছুই বুঝতে পারছে না। একবার মনে হচ্ছে বাসায়ই আছে, ড্রয়িং রুমে বসে মা টিভি দেখছে; কিচেন থেকে মেহনাজের চা বানাবার টুং টাং শব্দও আবছা ভেসে আসছে, এখুনি চায়ের কাপ হাতে ওকে ডাকতে আসবে।

পরক্ষনেই মনেহচ্ছে ব্যানব্যাট কন্টিনজেন্টে নিজের রুমে শুয়ে আছে সে। বাইরের উঠানে সৈন্যরা ভলিবল খেলছে; খেলার হৈ চৈ আবছাভাবে শুনতে পাচ্ছে সে।

ফের মনে হলো, একটা গাধার পিঠে বস্তার মত আড়াআড়ি ফেলে রাখা হয়েছে ওকে; গাধার পেটের একপাশে ওর গাল লেপ্টে আছে, আর অন্যপাশে সবুট পা দুটো ঝুলছে। গাধার প্রত্যেক পদক্ষেপের সাথে সাথে যন্ত্রণায় তার নাড়িভুরি উল্টে আসতে চাইছে।

আচমকা কপালে আলতো ঠান্ডা স্পর্শে বাস্তবে ফিরল রাশেদ। অনুভূতিগুলো ফিরতে শুরু করেছে। একটা চোখ সামান্য একটু মেলতে পারলো সে। অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ঘরে শুয়ে আছে, ঘরটায় কোনো আসবাবপত্র নেই, দেয়াল মাটির, আর সে শুয়ে আছে ঘরের মেঝেতে।

একটা মুখ ঝুঁকে এসে উঁকি দিল তার মুখের উপর; ভাবলেশহীন একটি মুখ, বয়েসের ভারে ন্যুব্জ এক বেদুঈন নারীর মুখ। চেহারায় বলিরেখার ছাপ স্পষ্ট, আর চুলগুলোও তার সব পেকে সাদা হয়ে গেছে।  রাশেদের কপাল থেকে পানি ভেজা কাপড়ের পট্টিটা তুলে এনে তা দিয়ে রাশেদের ঠোঁট-মুখ মুছে দিল বৃদ্ধা। জ্বর তপ্ত মুখে পানির ছোঁয়া পেয়ে রাশেদের ভীষণ তেষ্টা পেলো। বৃদ্ধা সম্ভবত তার ইচ্ছের কথা বুঝতে পারল। তার হাতের জলপট্টিটা মুঠি করে চিপে ধরতেই কয়েক ফোটা পানি টপ টপ করে রাশেদের ঠোটের উপর ছড়িয়ে পরল। বুভুক্ষের মত নিজের ঠোঁট চাটতে চাটতে নিশ্চিত হলো যে বেঁচেই আছে সে এখনও, কিন্তু শরীরের এই অবস্থা নিয়ে ঠিক কতক্ষন আর বেঁচে থাকবে কিংবা ওরা তাকে আদৌ বাঁচিয়ে রাখবে কিনা তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েই গেল।

হঠাৎ ঘরের ভেতর আরেকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ফের চোখ মেলার চেষ্টা করল রাশেদ।

বৃদ্ধার মুখটি সরে গিয়ে সেখানে একটি পুরুষ মুখ দেখা গেল। রোদে পোড়া পাথুরে পুরুষ মুখবয়ব; মাথায় নোংরা একটি পাগড়ি। পাগড়িটা হয়ত একসময় সাদাই ছিল, এখন দিনের পর দিন ব্যবহারে পুরাতন হয়ে প্রায় খয়েরি রঙ ধারন করেছে। মুখে কাঁচাপাকা দাড়ি। কপাল থেকে ডান চোখের উপর দিয়ে গাল অবধি একটা চওড়া কাটা দাগ। চোখের সাদাটে রঙ দেখে বোঝা যায় ডান চোখটি পাথরের আর চোখের এই অবস্থার জন্য ঐ দাগটাই দায়ী।

এক মুহুর্ত পরেই মুখটা সামনে থেকে সরে যেতেই রাশেদ আবার চোখ বন্ধ করল। হঠাৎ ঘরের ভেতর কথোপকথনের শব্দে সে সচকিত হলো। মনে হচ্ছে কেউ যেন ফোনে কথা বলছে; সম্ভবত গালকাটা লোকটাই কথা বলছে।

‘কাঁধে চোট পেয়েছে, পাঁজরের হাড় ভেঙ্গেছে কয়েকটি, আর একটা পা মচকে গেছে। সেরে উঠবে তবে সময় লাগবে।’

এরপর নিরবতা। হয়ত অপর প্রান্তের কথা শুনছে।

‘কালই?’

অপর প্রান্ত থেকে সম্ভবত হ্যাঁ সূচক কোনো জবাব এলো।
‘ঠিক আছে, তাই হবে। আসসালামুয়ালাইকুম।’ 

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

1 thought on “মিশন তিম্বক্তু (ছয়)”

  1. Pingback: মিশন তিম্বক্তু (পাঁচ) – Delwar Hossain Khan

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *