Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ৩ 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) পরিদপ্তর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বাংলাদেশ

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতর শহীদ সরনীর পশ্চিম পাশের একটি দোতালা ভবনের উপর তলায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের অফিস, যা আইএসপিআর অফিস নামেই বেশি পরিচিত। এই দোতালা ভবনটি একসময় সেনাবাহিনীর লজিস্টিক এরিয়ার সদর দপ্তর ছিল। ১৯৭২ সালে প্রথমে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে এই অফিসের কার্যক্রম শুরু হলেও পরে শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত গণভবন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এই অফিসটি গণমাধ্যমের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে জনসংযোগ ও প্রচারনার কাজটি করে থাকে।

বাংলাদেশের সাথে মালির সময়ের পার্থক্য প্রায় ছয় ঘন্টা। সকালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আইএসপিআর অফিসের ব্রিফিং রুমে যখন দেশের প্রায় সকল প্রিন্ট আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা মেজর মাহমুদের প্রেস ব্রিফিং শুনছেন তখন মালিতে স্থানীয় সময় প্রায় রাত তিনটা।

“গতকাল আফ্রিকার মালিতে স্থানীয় সময় আনুমানিক ১৩৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী ব্যাটালিয়নের একটি কনভয় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের পেতে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আই ই ডি) বোমার বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উক্ত বিষ্ফোরণে বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের একটি এপিসি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং উল্লেখিত এপিসির আট জন আরোহীর ছয় জনই ঘটনা স্থলে প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অপর দুই শান্তিরক্ষীকে হেলিকপ্টার যোগে উন্নততর চিকিৎসার জন্য ঘানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী সদর দপ্তর কর্তৃক সংশ্লিষ্ট আহত এবং নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে (আহত এবং নিহত শান্তিরক্ষীদের নাম ও পূর্ন ঠিকানা অত্র প্রেস বিজ্ঞপ্তির সাথে ক্রোড়পত্র আকারে সংযুক্ত করা হলো।)
আহত শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয়দের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ঘানায় প্রেরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিহত শান্তিরক্ষীদের মৃতদেহ জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই একদিনের ভেতর দেশে এসে পৌছাবে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অন্যান্য সকল শান্তিরক্ষীরা নিরাপদ আছেন।”

প্রেস ব্রিফিং শেষ হতেই সাংবাদিকরা একযোগে মেজর মাহমুদের দিকে যার যার প্রশ্ন ছুড়ে দিতে শুরু করল। প্রশ্নবাণে জর্জরিত মেজর মাহমুদের জন্য এ অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন নয়। তাই সে ভাবলেশহীন চেহারায় ডান হাতটা নিজের মাথার উপর তুলে দৃঢ় কন্ঠে বললেন, ‘ওয়ান বাই ওয়ান প্লিজ…’

***

প্রায় একই সময়ে নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিবের একজন মুখপাত্র প্রায় একই বর্ননার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ইংরেজিতে পড়ে শোনানো শেষ করে মহাসচিবের পক্ষ থেকে নিহত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং মালিতে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের উপর এহেন গর্হিত হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করলেন। পরিশেষে তিনি আশ্বস্ত করলেন যে মালি সহ সারা বিশ্বে মোতায়েনরত সকল শান্তিরক্ষীদের জন্য মহাসচিব যারপরনাই উদ্বিগ্ন এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সম্ভাব্য সব কিছু করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

2 thoughts on “মিশন তিম্বক্তু (তিন)”

  1. Pingback: মিশন তিম্বক্তু (দুই) – Delwar Hossain Khan

  2. অজয় সরকার

    ভাষা খুবই সাবলীল। তবে অধ্যায় ২ এ কিছু কথা বাদ পড়েছে। কর্পোরাল কুতুবকে ‘সার্জেন্ট র্যাংক’ পড়ানোর লাইন গুলো আরেক বার চেক দিয়েন স্যার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *