Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ১৫

ভিডিও শেষে সবার প্রথম মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং, ‘ভিডিওটা আবার দেখান।’

ভিডিওর শুরুতেই বাংলাদেশী ইউনিফর্ম পরিহিত একজন সেনাসদস্যকে হাঁটু গেড়ে আধ বসা অবস্থায় দেখা গেলো। কালো কাপড় দিয়ে শক্ত করে চোখ বাঁধা। কিন্তু দেখামাত্র তাকে রাশেদ বলে চিনতে এতটূকু দেরি হল না সাইরাসের। রাশেদের দুপাশে অটোমেটিক কালাশনিকভ হাতে দুজন লোক দাঁড়ানো। দুজনের পরনে ডেজার্ট প্যাটার্নের জীর্ন ইউনিফর্ম। মাথায় জলপাই রঙের পাগড়ি বাঁধা, পাগড়ির উপর লাল রঙের কাপড় মুড়িয়ে বানানো বেল্ট বাধা। পাগড়ির বাড়তি অংশ দিয়ে চোখের নিচ পর্যন্ত দুজনেরই মুখ ঢাকা। ওরা দুজন দুপাশ থেকে আঁকড়ে ধরে রাশেদকে প্রায় ঝুলিয়ে সোজা করে ধরে রেখেছে। ওদের পেছনের দেয়াল জুরে কালো রঙের একটি পতাকা টাঙ্গানো, পতাকার মাঝে সাদা আরবী হরফে কিছু লেখা।

পতাকাটি সাইরাসের খুব পরিচিত। কালো কাপরের উপর সাদা আরবী হরফে কালিমা শাহাদাত লেখা। কালিমার নিচেই একটি সিল মোহর আঁকা। মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) চিঠিপত্রে এই সিল মোহর ব্যবহার করতেন। এখন অবশ্য সেই সিল মোহরটি ইস্তাম্বুলের টপকাপি প্যালেস জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ইসলামিক স্টেট এর কালো পতাকা হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত এটি। একই পতাকা আল শাবাব, আক্বাপ, আক্বিম আর বোকো হারামের মত অন্যান্য অনেক স্থানীয় জিহাদিস্ট টেররিস্ট গ্রুপও ব্যবহার করে থাকে।

চোখ ঢাকা থাকলেও রাশেদ যে প্রচন্ড যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে তা তার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। মাথাটি ইতোমধ্যে একপাশে হেলে সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে আছে, একটা পা অদ্ভুতভাবে মুচড়ে আছে, আর দুপাশ থেকে দুজন ধরে না থাকলে যে এখুনি সে উপুর হয়ে মেঝেতে পরে যাবে তা পরিস্কার।

‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট,’ আরবী টানে ইংরেজি কথা ভেসে এলো ঠিক রাশেদের পেছনে দাঁড়ানো লোকটির মুখ থেকে; কন্ঠটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে সামান্য বিকৃত করা। বোঝা যাচ্ছে এই ব্যাক্তিই এদের দলনেতা। তার মাথা আর মুখ একই কায়দায় ঢাকা। পার্থক্য শুধু তার চোখ দুটো চওড়া ফ্রেমের কালো সানগ্লাস দিয়ে ঢাকা আর নেকাব ছাপিয়ে তার মুখ ভর্তি ঘন দাড়ির অস্তিত্ব স্পষ্ট। ইউনিফর্মের বদলে জোব্বার মত স্থানীয় একটি পোষাক পরে আছে সে; উপরে একটি ভারী কম্ব্যাট জ্যাকেট চাপানো। ক্যামেরার পেছন থেকে টর্চ জ্বেলে রাশেদের মুখের উপর আলো ফেলা হয়েছে। ঠিক তার পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকায় বিশালদেহী দলনেতার চেহারাটি সামান্য অন্ধকারাচ্ছন্ন দেখাচ্ছে।

‘এই হলো আপনাদের সেই নিখোঁজ শান্তিরক্ষী ক্যাপ্টেন রাশেদ। আপনি জেনে খুশি হবেন যে আমরা তার উপর কোনো অত্যাচার চালাইনি। এপিসি থেকে পরে গিয়ে সে নিজেই আহত হয়েছিল। আমরা বরং তাকে চিকিৎসা দিচ্ছি যেন সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে। ’

‘তবে,’ নাটকীয়ভাবে সামান্য বিরতি দিয়ে সে আবার শুরু করল, ‘তার বাঁচা মরা এখন আপনার হাতে। আমরা আলকায়েদা ইন তিম্বাক্তু। আজওয়াদকে স্বাধীন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। আপনারাও জানেন এটা আমাদের ন্যায্য দাবী। ২০১৩ সালে আমরা একবার আজওয়াদ স্বাধীন করেছিলাম। কিন্তু বামাকো সরকারের ষড়যন্ত্রে ফ্রেঞ্চরা ফিরে এসে আমাদের সেই স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা ভেবেছে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুয়ারেগদের এই প্রাণের দাবী তারা উপেক্ষা করতে পারবে। তাই তারা একের পর এক চক্রান্ত করেই চলেছে আর শান্তিরক্ষার নামে আমাদের মুজাহিদ ভাইদের হত্যা করে চলেছে। আর তাদের এই নীল নক্সায় সামিল হয়েছে জাতিসংঘ। কথা ছিল তারা নিরপেক্ষভাবে এখানে শান্তিরক্ষা করবে। কিন্তু তারা আমাদের সাথে বেঈমানি করেছে। শান্তিরক্ষার নামে তারা দিনের পর দিন ফ্রেঞ্চ সরকারের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের এই জেহাদকে রুখবার সাধ্য কারো নেই, ইনশাল্লাহ।’

দম নেবার জন্য সামান্য বিরতি দিয়ে সে আবার শুরু করল, ‘মালিতে জাতিসংঘের পক্ষে সৈন্য পাঠিয়ে বাংলাদেশও শয়তানদের সাথে হাত মিলিয়েছে। সুতরাং তোমাদেরও নিস্তার নেই। জাতিসংঘের প্রত্যেকটি শান্তিরক্ষীকে আমরা হয় আজওয়াদের বুক থেকে বিতারিত করব, নাহয় তাদের রক্তে আজওয়াদের মাটি রঞ্জিত হবে। আমি আলকায়েদা ইন তিম্বাক্তুর পক্ষ থেকে আপনাকে দশ দিন সময় বেঁধে দিলাম। এর ভেতর যদি মালি থেকে বাংলাদেশের সব শান্তিরক্ষী সরিয়ে না নেয়া হয়, তাহলে আপনার এই সৈনিকের শিরোচ্ছেদের ভিডিও আপনাকে পাঠিয়ে দেয়া হবে। মিঃ প্রেসিডেন্ট, মনে রাখবেন এখন থেকে প্রত্যেকটি বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীর মৃত্যুর জন্য আপনিই দায়ী থাকবেন, আর মনে রাখবেন, মালি থেকে সব বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী সরিয়ে নিতে ঠিক দশ দিন সময় আছে আপনার হাতে। আল্লাহ হাফেজ।’

তার কথা শেষ হতেই রাশেদের দুপাশের লোক দুটো হাত সরিয়ে নিতেই সে মুখ থুবড়ে মেঝেতে আছড়ে পরল। সম্ভবত হ্যান্ড হেল্ড ক্যামেরা কিংবা মোবাইলে ভিডিও করা হয়েছে। কারন রাশেদ পরে যেতেই ক্যামেরাটি তার মুখের কাছে এনে ধরা হল। রাশেদের ঠোঁট ফেটে রক্ত ঝরছে; এরি মধ্যে সে বিড়বিড় করে কিছু একটা বলে যাচ্ছে। ক্যামেরাটি মুখের আরেকটু কাছে ধরতেই শোনা গেল, ‘সাইরাস স্যার, বাঁচান … সাইরাস স্যার, বাঁচান…’             

তার পরপরই দপ করে ভিডিওটি শেষ হয়ে গেল।

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

3 thoughts on “মিশন তিম্বক্তু (পনের)”

  1. Pingback: মিশন তিম্বক্তু (চৌদ্দ) – Delwar Hossain Khan

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *