Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ২০

ব্যস্ত হাতে ট্যাক্সিভাড়া মিটিয়ে দিয়ে প্যান্ডরা বুক স্টোরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো শফিক আর আনিকা।

১৯৯১ সালে চালু হওয়া প্যান্ডোরা বুক স্টোরটি ইস্তাম্বুলের সবচাইতে বড় বইয়ের দোকান। সুরম্য দোতলা এই বিল্ডিং এর ভেতর থর থরে সাজানো আছে দেশী বিদেশী বেস্ট সেলার আর দুর্লভ সব বই। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনেও বই অর্ডার করা যায় এখানে, তাছাড়া কোনো বই স্টকে না থাকলে অর্ডার দিয়ে গেলে দুদিনের ভেতর আনিয়ে রাখে। এর আগেও বেশ কয়েকবার পেশাগত কারনে আর বই কিনতে এখানে এসেছে শফিক। তাই ভেতরে ঢুকে স্বচ্ছন্দে ইংরেজি বেস্টসেলার সেকশনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো; আনিকাও তার গা ঘেঁসে দাঁড়ানো। 

শেলফ ভরা বইগুলোর উপর চোখ বুলাতে লাগল শফিক, যেন বিশেষ কোনো বই খুঁজছে। ওদিকে মনিকা ইতোমধ্যেই ড্যান ব্রাউনের অরিজিন হাতে তুলে নিয়ে পাতা উল্টে পাল্টে দেখতে শুরু করে দিয়েছে।

‘আপনারা সম্ভবত দ্য সৌল অফ রুমি খুঁজছেন।’

স্পষ্ট ইংরেজিতে ভেসে আসা মোলায়েম নারী কন্ঠ শুনে ওরা দুজনই পেছন ফিরে তাকালো। বিশ একুশ বছর বয়েসী মিস্টি একটি মেয়ে; সেলস গার্লের চেয়ে হাই স্কুলের বাচ্চা মেয়ে বললেই বেশি মানায়।

‘হ্যাঁ, আমি মেভলানা রুমির দারুণ ভক্ত!’ সহজাত উচ্ছাস প্রকাশ করে বলল শফিক।

‘অবশ্যই! সুর, কবিতা আর নাচের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে রুমির জুরি মেলা ভার। দয়া করে আমার সাথে কাউন্টারে চলুন। আপনাদের বইটি আমি আলাদা করেই রেখেছি।’

কাউন্টারের ওপাশে গিয়ে ড্রয়ার খুলে এক কপি ‘দ্য সৌল অফ রুমি’ ওদের সামনে রাখল মেয়েটি। স্বচ্ছ পলিথিনে মোড়ানো মেরুন রঙের সুদৃশ্য বইটি হাতে তুলে নিল আনিকা আর নিঃশব্দে মূল্য পরিশোধ করল শফিক। তারপর সেলস গার্লটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বুক স্টোরের বাইরে পা বাড়ালো।

বাইরে বেরিয়েই একটি ট্যাক্সিতে উঠে বসতেই আনন্দে শফিককে জড়িয়ে ধরে আনিকা বলে উঠল, ‘থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ, হানি! আই লাভ রুমি! বইটা যে কখন পড়া শুরু করব!’

হাসতে হাসতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে শফিক বলল, ‘এখনই পড়া শুরু করো; মানা করছে কে?’ মনে মনে আনিকার অভিনয়ের প্রশংসা না করে পারল না শফিক। অবশ্য ট্যাক্সি ড্রাইভারের মনে যেন কোনো সন্দেহ না জাগে, সেজন্যই এই অভিনয়।

আনিকা ব্যস্ত হাতে স্বচ্ছ পলিথিন মোড়ক ছিড়ে বইটি বের করে নিজের উরুর উপর রেখে সাবধানে মেলে ধরতেই বইয়ের ঠিক মাঝখানে একটি চাবি রাখা দেখতে পেলো। চাবির মাপমত  যত্ন করে বইয়ের পাতা কেটে সেই গর্তে চাবিটি বসানো। চাবিটি দ্রুত শফিকের হাতে চালান করে দিয়ে মনোযোগ দিয়ে বইয়ের পাতা উল্টাতে লাগল সে।চাবির উপর চোখ বুলাতেই প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু পেয়ে গেল শফিক। নিরুত্তাপ কন্ঠে এবার ট্যাক্সি ড্রাইভারকে নিজেদের গন্তব্য জানাতে বলল, ‘ওয়াইন্দহাম ইস্তাম্বুল ওল্ড সিটি হোটেল।’

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *