Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

অধ্যায় ১৭     

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজিপুর, বাংলাদেশ

কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ কারটি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটের সামনে এসে দাঁড়াতেই প্রহরারত সেন্ট্রি সিসি টিভিতে কারের নাম্বার প্লেটটি দেখে তার সামনে রাখা রেজিস্টারের সাথে মিলিয়ে নেয়। তারপর হাতের বল পয়েন্ট কলম দিয়ে নাম্বারের পাশে খস করে টিক চিহ্ন দিয়ে ওয়াকিটকির কাছে মুখ নামিয়ে বলল, ‘ক্লিয়ার।’

সাথে সাথে গেটের এক পাশের ভারী পাল্লাটি খুলতে শুরু করল।

প্রায় ছিয়াত্তর কোটি টাকারও বেশি খরচে নির্মিত কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার উপমহাদেশের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় কারাগার। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিচ্ছিদ্র করতে ছয় তলা বিশিষ্ট দশটি ভবন ঘিরে রয়েছে তিনটি উঁচু পর্যবেক্ষন টাওয়ার। আঠার ফুট উঁচু প্যারামিটার ওয়াল দিয়ে প্রতিটি ভবন ঘেরা, তার উপর পাচ ফুট উঁচু ইলেকট্রিক ওয়ারিং। প্রতিটি ভবনে আলাদা আলাদা করে মোট ৩০টি সিসিটিভি আর ১০টি মোবাইল জ্যামার বসানো। আর একারনেই কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার উপমহাদেশের সেরা কারাগারগুলোর অন্যতম। এই কারাগারেরই একটি বিশেষ সেলের এক বিশেষ বন্দীর সাথে দেখা করতে এই অবেলায় কাশিমপুরে ছুটে এসেছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের চৌকস কর্মকর্তা এএসপি মোতালেব।

এফবিআই থেকে সদ্য ট্রেনিং শেষ করে আসা অতিরিক্ত উপকমিশনার মোতালেব মূলত এনএসআই এর অফিসার হলেও শুরু থেকেই কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাথে আছে সে। কাউন্টার টেররিজম, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম, ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম, এই চারটি বিভাগে বিভক্ত হয়ে প্রায় ছয়শ পুলিশ সদস্যের এই ইউনিট ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে টেররিজমের বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করে। মোতালেবের আজকের এসাইনমেন্টের সহকারী ইন্সপেক্টর মনোয়ারও প্রায় একই সময় ধরেই এই ইউনিটে আছে। যদিও এর আগে একসাথে কোনো এসাইনমেন্টে কাজ করার সুযোগ হয়নি তাদের। তবে ঢাকা থেকে কাশিমপুর আসবার পথে কথায় কথায় মোতালেব ইতোমধ্যেই বুঝে গেছে যে মনোয়ার একজন অভিজ্ঞ ইন্টারোগেশন এক্সপার্ট হলেও টেররিস্টদের পেট থেকে কথা আদায়ের ব্যাপারে তার ধ্যান-ধারনা ও কৌশল বেশ গতানুগতিক আর সেকেলে। ‘মাইরের উপর ঔষধ নাই,’ হলো তার শেষ কথা। এর হাতে ইন্টারোগেশনের দায়িত্ব দেয়া হলে টেররিস্টের কী হাল হবে, করিডোর ধরে হাঁটতে হাঁটতে তা ভেবে মনে মনে আঁতকে উঠল মোতালেব। 

Delwar Hossain Khan (Del H Khan)
দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *